অবশেষে গুরুদাসপুরে ‘ভূয়া ডাক্তার আটক’ নাটকের অবসান

প্রকাশকাল- ১৪:৪৭,অক্টোবর ১১, ২০১৭,চলনবিলের সংবাদ বিভাগে

মো. আখলাকুজ্জামান, নিজেস্ব প্রতিনিধি:
প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও মেডিকেল কলেজ ছাত্র মো. আমিরুল ইসলাম সাগরকে ডাক্তার সাজিয়ে ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ এনে গত ৪ অক্টোবর ‘ভুয়া ডাক্তার আটক’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক ও অনলাইনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অবশেষে সাগরের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা তথ্যভিত্তিক নয় বলে সে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালে এ নাটকের অবসান ঘটেছে।
প্রাপ্ত তথ্য সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাজিরপুর বাজারে আমিরুল ইসলাম সাগরের বাবার (আনোয়ার ক্লিনিক) নামে এবং চাঁচকৈড় বাজারে মায়ের (হাজেরা ক্লিনিক এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার) নামে পৃথক দুইটি ক্লিনিক রয়েছে। ক্লিনিক দু’টিতে নির্ধারিত ডাক্তারও আছেন। তাঁরাই চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। আনোয়ার ক্লিনিকটি আমিরুল ইসলাম সাগরের বাসার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত। সে রংপুরের একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের হাতে আটক সাগরের বড় ভাই ডাক্তার আমিনুল ইসলাম সোহেল। তিনি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। অথচ ওই দুইটি ক্লিনিকের সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করছেন। গেল প্রায় ১০দিন ধরে তিনি কর্মস্থলে নেই। সেই সুযোগে দুইটি ক্লিনিকেই তার ছোট ভাই সাগর চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। এতে সেবা প্রত্যাশীরা প্রতারিত হচ্ছিলেন।
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সাগর বলেন, এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি ইর্ষান্বিত হয়ে অভিযোগ তুলেন যে- আমি ডাক্তার সেজে ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। এমন একটি ভুয়া খবরের প্রেক্ষিতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠায়। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই দিন রাতেই আমি বাড়ি চলে যাই। অথচ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ‘ভুয়া ডাক্তার আটক’ সংক্রান্ত খবরগুলো আমাকে বিস্মিত করেছে। আমি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সাগর আরো বলেন, আমাকে নিয়ে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা তথ্যভিত্তিক নয়। একটি বিশেষ মহলের সাজানো নাটক ও প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আমি একটি বে-সরকারি মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়ছি। এখন শেষ বর্ষ চলছে। সম্প্রতি আমি ছুটিতে বাড়িতে এসেছি।
গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, সাগরকে আটকের সময় ওই ক্লিনিক থেকে তার বড় ভাইসহ একজন অতিথি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র উদ্ধার করেছে। ওই ব্যবস্থাপত্রে সাগরের হস্তলেখা নেই। একারনে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।