অযৌক্তিক গৃহকর! মরার উপর খাঁড়ার ঘা…

প্রকাশকাল- ২১:১১,অক্টোবর ১০, ২০১৭,মুক্ত চিন্তা বিভাগে

আকাশ ইকবাল:
চট্টগ্রামের অধিকাংশ লোকের ভরন-পোষণ ঘর ভাড়ার উপর নির্বরশীল। যে ঘর ভাড়া নিয়েছে সে যেমন নির্ভরশলীল ঠিক একই ভাবে যে দিয়েছে সেও। মানুষের বাৎষরিক ব্যয় নির্বাহ ও আয়কর দেয়ার পর কর্পোরেশনের দাবিকৃত অযৌক্তিক গৃহ কর প্রদানের জন্য আর কোন অবশিষ্ট থাকে না। সামান্য বৃষ্টিতে অথবা জোয়ারের পানিতে পুরাতন চান্দগাঁও, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, বাকলিয়া, খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ ও হালিশহর সহ চট্টগ্রামের চার ভাগের তিন ভাগ এলাকা ডুবে যায়। এতে বাসা ৫০ ভাগ বাসা-বাড়িতে পানি ডুকে যায়। এরই মধ্যে নগরীর বেশ কিছু এলাকায় ভাড়াটেরা বাসা ছেড়ে অন্যথায় নিয়েছে। যার কারণে বাবা-বাড়ির মালিকরা ভাড়া কম পাচ্ছে। বেশ কিছু এলাকায় গত কয়েক মাস থেকে ভাড়াঘর খালি যাচ্ছে। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশণ গৃহ কর বাড়িয়ে ১৭% এ নিয়ে এসেছে। আর অধিক করের বোঝা ঐ ভাড়াটিয়ার ঘাড়েই পরবে নি:সন্দেহ। চট্টগ্রামের মতো পৃথিবীর অন্য কোন বাণিজ্যিক শহর এভাবে পানিতে ডুবে থাকে না। অদ্যাবধি এই ব্যপারে কোন উদ্যোগ গ্রহন না করে মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশন জলাবদ্ধ নাগরিকের উপর হোল্ডিং ট্যাক্স এর বোজা চাপানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
গৃহকর বাড়ালে ক্ষতি শুধু বাড়িঅলারা নয়। ভাড়াটিয়ারাও। কারণ সিটি কর্পোরেশনের ১৭% গৃহকর আরোপিত থাকলে বাড়ির মালিকরা বাসা ভাড়া বাড়িয়ে দিবে। আর এতে নি¤œ আয়ের ভাড়াটিয়ারা অধিক চাপে পড়বে। বর্তমানে শহরে যে পরিমাণ বাসা ভাড়া, তা দিয়ে অনেক ভাড়াটে কূল করতে পারে না। ১৭% গৃহকর বাতিল না করলে সেই সব নি¤œ আয়ের মানুষ তো শহর ছেড়ে গ্রামে পালাবে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সূত্রে জানা যায়, অনেক ভাড়াটিয়া মাসের বেতন পেয়ে মালিক কে দিয়ে তার ঘর খরচ চালানোর টাকাও না পেয়ে পরিবার কে বছর শেষ না হতেই বাড়ী পাটিয়ে ছেলে-মেয়ের শিক্ষা জীবন ইতি টানছেন। সেই ক্ষেত্রে গৃহকর বাড়ানোর কোন যৌক্তিকতা নেই।
চট্টগ্রাম নগরীর বেশির ভাগ মানুষের একমাত্র উপার্জন নির্বাহের মাধ্যম হচ্ছে ঘর ভাড়া। ইনকাম ট্যাক্স, ভ্যাট, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল, সংস্কার, দারোয়ান ইত্যাদি ছাড়াও আরো সব আনুসঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে যে টাকা বাঁচে তা দিয়ে কোন মতে পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্ট করে থাকে। এর মধ্যে যদি গৃহকর বাড়িয়ে ১৭% জোরপূর্বক আরোপ করে তাহলে নগরবাসীর অবস্থা কি হতে পারে?
যত্রতত্র প্রকল্প গ্রহন, কোন মাস্টার প্লান ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন, দূর্নীতি, ব্যয় এর মাত্রা দিন দিন বাড়ছে তবে সে হারে উন্নতি হচ্ছে না শহরের। সেই ব্যয় ভার নিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দিনদিন এই সমস্যা পাহাড় সম হয়ে চসিকের বিরুদ্ধে অসোন্তষের দানা বপন হয়ে গেছে এই ৬০ লাখ বাসিন্দার মনে। কর সুরক্ষা পরিষদের তথ্যানুয়ী দেশের কোন শহরেই ১৭% হোল্ডিং ট্যাক্স নামে কোন কর আরোপ হয়নি বলে জানা গেছে। এক দিকে শহরে দিন দিন মানুষের হার বাড়ছে। অন্যদিকে খাদ্য দ্রব্য থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল কিছুর দাম বাড়ছে। বাড়ছে মানুষ ব্যয়ের হিসাব। কিন্তু সেই পরিমাণ আয় মানুষের হচ্ছে না।
সিটি কর্পোরেশন মেয়র প্রথম থেকে বলে আসছে, ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়ে আইনের উর্দ্ধে যেতে পারবেন না। অর্থ্যাৎ সিটি কর্পোরেশন মন্ত্রণালয়ের নীতি বাস্তবায়ন করছে মাত্র। এখানে আমাদের একটা কাজ এসে যায়। সেটা হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন, কাউন্সিলর অফিস ঘেরাও এর সাথে সাথে মন্ত্রণালয়ও ঘেরাও করতে হবে। আন্দোলন আরো তীব্রতর করা প্রয়োজন। কারণ এই গেজেট পাশ করেছে মন্ত্রণালয়। আমি একটা বিষয় খুব চিন্তা করি, গৃহকর বৃদ্ধির বিষয়ে স্থানীয় বড় নেতা, এমপি ও মন্ত্রীদের সোচ্চার হতে। অথচ তারা ভোট নেওয়ার সময় ভোটারদের কত রকম সুযোগ সুবিধার আশ^াস দেন। যখন ভোটররা কোন বিপদে পড়ে তখন তাদের পাশে পাওয়া যায় না। এই অযৌক্তিক গৃহকর গেজেট বাতিল করতে স্থানীয় এই এমপি, মন্ত্রীদের সোচ্চার হওয়া জুররী।
আয় কর, ভুমিকর, খাজনা এবং কৃষি ট্যাক্স, গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানির বিলের আরোপিত ট্যাক্স দেওয়ার পরে বাড়তি এই হোল্ডিং ট্যাক্স মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সময় থাকতেই গৃহকরে গৃহ জ্বালা কমাতে না পারলে মানুষ এই সিটি ছেড়ে গ্রামে পালাতে হবে।