আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী সফরে আসছেন

প্রকাশকাল- ১৮:৫৬,সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী সফরে আসছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজশাহীজুড়ে নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা। জনসভা স্থানে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি সভাস্থলের চারপাশে প্রচুর পরিমান পুলিশ, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য ও র‌্যাব নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়াও যানজট নিরসনে রাজশাহী মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এদিকে তার এই সফর ঘিরে রাজশাহীবাসীর পক্ষে ১৫টি দাবি প্রস্তুত করেছে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। এদিকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা সভা করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য এই দাবিনামা প্রস্তুত করেছেন। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের দাবিনামা প্রস্তুত করতে গেল কয়েকদিন ধরেই নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। অবশেষে গতরাতে তা প্রস্তুত হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ব্যক্তিগত সচিব সাইফুজ্জামান শেখর রাজশাহী আসবেন। তখন দাবিনামাটি তার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এসব দাবি বিবেচনায় নিয়ে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- রাজশাহী টেক্সটাইল মিল ও রাজশাহী সুগার মিলের উন্নয়ন, বন্ধ রেশম কারখানা চালু, বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত, রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন এবং সেখান থেকে কার্গো বিমান চালু এবং জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা থেকে বাঘা উপজেলা পর্যন্ত পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজশাহীতে আরও একটি সরকারি বালক এবং একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানাবে আওয়ামী লীগ। দাবি থাকবে রাজশাহী (হেলেনাবাদ) সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি থেকেই ভর্তি প্রক্রিয়া চালুর। এছাড়া শিক্ষা নগরী রাজশাহীকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও দাবি রয়েছে আওয়ামী লীগের। ডাবলু সরকার জানান, তাদের দাবির মধ্যে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে আব্দুলপুর পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেল লাইন স্থাপন ও রাজশাহীতে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপনেরও দাবি রয়েছে। এছাড়া গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়িহাটে একটি ভেটেরিনারি কলেজ এবং গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাবে আওয়ামী লীগ। এছাড়া বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রাজশাহীর সড়কগুলোর দ্রুত মেরামত এবং ঢাকা-রাজশাহী ননস্টপ একটি ট্রেনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাবে আওয়ামী লীগ। গতরাতে সভা করে এই দাবিনামা প্রস্তুতের পর শীর্ষ নেতারা রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে তাতে স্বাক্ষর করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব এই দাবিনামা তার কাছে হস্তান্তর করবেন। উল্লেখ্য,২০০৮ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চতুর্থ সফর এটি। এর আগে ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে, ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাগমারায় এবং ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চারঘাটে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী। পবার হরিয়ানে রাজশাহী চিনিকল মাঠে এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ নেতাকর্মীর আগমন হবে বলে আশা করছে আওয়ামী লীগ। জনসভাকে ঘিরে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবেন বলে মনে করছেন তারা।