আড্ডার প্রাণ ইবির ঝাল চত্বর

প্রকাশকাল- ১৯:১৯,জুলাই ১৯, ২০১৭,খুলনা বিভাগ, মুক্ত চিন্তা বিভাগে

IU Pic 19-07-19সাইফুল্লাহ হিমেল, ইবি-

ঝাল চত্বর। বছরের বার মাসই জমজমাট থাকে বন্ধু-বান্ধবির আড্ডায়। শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাঁকে সময় করে দল বেধে চলে আসে ঝাল চত্বরে। মুখোরচক বিভিন্ন খাবারগুলো বন্ধুর মুখ থেকে কেড়ে নিয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা।

ঝাল মুড়ি, ছোলা, আমড়া, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গ, পেয়ারা, ডাব, লেবুর সরবতসহ সকল মৌসুমী ফলের সমাহার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাল চত্বর। আর এভাবেই ক্যাম্পাসের পুরো সময়টা আনন্দে কাটে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাল চত্বর প্রেমিদের।

ছাত্র জীবন মানেই হাতে অফুরন্ত সময় কিন্তু টকার বড়ই সংকট। তাই কি থেমে থাকবে আনন্দ! কখনই না। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো। আড্ডা জমিয়ে তুলতে পাঁচ টাকার চিনা বাদামই যথেষ্ট। জন প্রতি কয়টি বাদাম হলো সেটি বড় কথা নয়। প্রিয় বন্ধুর মুখ থেকে বাদামের একটি দানা কেড়ে নিতে পারাই যেন মূল আনন্দ।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত নি¤œবৃত্ত এবং মধ্যবৃত্ত পরিবারের সন্তানেরা লেখাপড়া করে। স্বল্প টাকায় কিভাবে অসীম চাওয়ার গলায় লাগাম লাগাতে হয় তা বিশ্ববিদ্যালয় একজন ছাত্র/ছাত্র পাঁচ বছর ধরে অনুশীলন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষার্থীই সফলতার সাথে অসীম প্রয়োজনের মুখে মুখোশ লাগিয়ে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে চলে।

সকালের খিচুরিটা মোটেও স্বাদ লাগেনি। সামন্য খেয়ে উঠে এসেছি। একটানা দুইটা ক্লাস করতে হলে ফিরতে ফিরতে খুধায় পেট চুচু করছে। রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে যোহরের সালাতটা আদায় করলাম। এরপর এক পেট খুধা নিয়ে গেলাম ডাইনিংয়ে। এক সাগর ঝোলের মধ্য থেকে এক টুকরো মাছ তুলে দিলেন ডাইনিংয়ের শাবু মামা। সাথে সামন্য সবজি। তরকারির রং দেখেই যেন পেট ভরে যায়। কতদিন বলেছি মামা মরিচের গুরা দিয়ে রান্না করবেন না। এসব খেলে গ্যাস খুব ডিস্ট্রাব করে। কাঁচা মরিচ দিলে ভালো হয়। যাই হোক, খাবার মুখে নিয়ে দেখলাম ফ্রিজে রাখা মাছ। সামান্য গন্ধ লাগছে। চোখ-নাক বন্ধ করে কয়েক মুঠো খেয়ে এক বাটি ডাল চুমুক দিয়ে খাওয়া শেষ করলাম। এরপর ভেতরে গিয়ে ডাইনিংয়ের আবেদা খালার কাছে আস্তে করে জানতে চাইলাম, খালা মাছ কবে কেনা? খালা ফিস ফিস করে বলল, ‘কি বলব মামা, সে দিন কম দামে মাছ পেয়ে ম্যানেজার সন্ধা বেলা এক সপ্তাহের মাছ একদিনে কিনে আনছে। তবে মাছগুলো সামন্য নরম হয়ে গেছিল।’

বিকেলে সাদ্দাম হলের সামনে আব্দুস সোবহান চাচার চায়ের দোকানে বন্ধুদের আড্ডা বসে। চা, কলা আর বিস্কুট বিক্রয় করেই চাচার সংসার চলে। তবে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় চাচার মনটাও ফুরতিতেই থাকে। কথা হলো চাচার সাথে। চাচা জানালেন, প্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি এখানে চায়ের দোকান দিয়েছেন।’ প্রতি বছর নতুন নতুন শিক্ষার্থীরা আসে আর প্রবীণ শিক্ষার্থীরা বিদায় জানায় প্রাণের ক্যাম্পাসকে। এভাবে কত শিক্ষার্থী এলো-গেল চাচার দোকান এখনো বিদ্যমান। ডায়না চত্বরের লম্বা লাম্বা গাছগুলো এখনো ঠাই দাড়িয়ে আছে। আম বাগান, বকুল তলা, পেয়ারা তলা সবই রয়েছে। শুধু কালের পরিক্রমায় ঝাঁকে ঝাঁকে মেধাবীরা আসে জ্ঞানার্জনের পিপাসা নিয়ে। পাঁচটি বছর শেষে প্রিয় ক্যাম্পাসের শত শত স্মৃতি মনে গেঁথে নিয়ে ফিরে যায় নিজের জীবনের ডাকে সারা দিয়ে। যেখানেই থাকুক জীবনের বাঁকে বাঁকে ঝাল চত্বরের ঝালমুড়ি বার বার উপস্থিত হবে মনের দুয়ারে। প্রিয় বন্ধুটির স্বরণে চোখের কোনা বেয়ে কখনো গড়িয়ে পড়বে একফোঁটা জল।