আদিতমারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ মধ্যরাতে অপরিচিত লোকের সাথে গোপন বৈঠক

প্রকাশকাল- ২০:৫৬,অক্টোবর ১১, ২০১৭,রংপুর বিভাগ বিভাগে

11.10.17লালমনিরহাট প্রতিনিধি। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার হাজীগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আতœ্যসাত,ভুয়া বিল ভাউচার তৈরী করে বড় অংকের টাকা নিয়ে পকেট তাজা,গভীররাতে অপরিচিত লোক নিয়ে বিদ্যালয়ের কক্ষে ঘন্টায় ঘন্টায় বৈঠকসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল হাসেম। অভিযোগের অনুলিপি বিভাগীয় উপ-পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগ রংপুর,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লালমনিরহাট,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আদিতমারী,লালমনিরহাট। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আদিতমারী,লালমনিরহাট ও জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন,রংপুর প্রেরণ করেছেন প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হাজীগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল হামিদ গত ১১ মার্চ ২০১৭ ইং তারিখে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। স্থানীয় আব্দুল খালেক,আনোয়ার হোসেন ও আব্দুস সাত্তারসহ অনেকে জানান প্রধান শিক্ষক যোগদানের পর থেকে অনেক কাজ তিনি নিজ গতিতে করে থাকেন। প্রথম কাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে হাজীগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের ঘর ইট দিয়ে নির্মান করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া অন্য একজনের কাছে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে স্কুলের জমিতে দোকানঘর করার অনুমতি দেন। ফলে স্কুলের জমিতে দোকানঘর করে কয়েক ব্যাক্তি। এদিকে স্কুল ঘর মেরামতের জন্য ১ লাখ ৯ হাজার টাকা সরকারী বরাদ্দর মাত্র ২০ হাজার টাকার কাজ করে দোকানদারের সাথে যুক্তি করে ভুয়া বিল ভাউচার করে পুরো টাকা আতœ্যসাত করেন প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল হামিদ। তবে এব্যপারটি বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল হামিদ স্বীকার করে বলেন, এই টাকা থেকে কিছু টাকা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আবুল হাসেমকে দিয়েছি। সরকারী বরাদ্দের টাকা কেন দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি সঠিক জবাব দিতে পারেননি। এছাড়া মাদ্রাসর শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত জায়গাটি প্রধান শিক্ষক দখল করায় শিক্ষার্থীদের বাথরুমসহ বিভিন্ন সমস্যায় পরেছেন জানান স্থানীয়রা। এবিষয়টি ১১ অক্টোবর বুধবার জেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সরেজমিনে তদন্তে গেলে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে স্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল হামিদ। এসময় প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, সভাপতি আবুল হাসেম তার কাছে আরো টাকা দাবী করলে না দেয়ায় সভাপতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তৎক্ষণিক তদন্তকারী জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার সভাপতি ঢাকায় আছেন মর্মে মোবাইলে করেন। মোবাইলে সভাপতি আবুল হাসেম জানান, প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে তিনি কোন টাকা দাবী করেননি বা নেননি। ভুয়া বিল ভাউচারে তিনি স্বাক্ষর করেননি একথাটিও জানান সভাপতি। তবে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ তার কাছ থেকে ফাঁকা বিল ভাউচারে বিল উত্তোলনের নাম করে স্বাক্ষর নেন জানান। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো একটি গুরুতর অভিযোগ উল্ল্যেখ রয়েছে, অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় রাতে জেলার হাতিবান্ধা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে পালসার মোটর সাইকেল গাড়ীতে আসা অপরিচিত লোকদের নিয়ে রাত ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত অন্ধকার কক্ষে বসে খোশ গল্প করেন। স্থানীয়রা জানান, জামাত,শিবির বা জেএমবিদের নিয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা করেন বলে তাদের ধারনা। এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, এসব লোক আমাদের কাছে আসেনা। তারা আমাদের বিদ্যালয়ের পাশে মাদ্রাসাটির সুপার তার কাছে আসতে পারে। এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাদি বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব আনিত অভিযোগ তা ভিত্তিহীন দাবী করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার খন্দকার ্অল ইমরান জানান, সবে মাত্র তদন্ত করা হলো বিষয়টি তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে।