আমাগারে খবর কেউ নেয় না বা

প্রকাশকাল- ১৯:১২,আগস্ট ২১, ২০১৭,চলনবিলের সংবাদ বিভাগে

সাপআশরাফুল ইসলাম রনি,তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বন্যাকবলিতরা সাপের ভয়ে ঘুমাতে পারছেন না। সারারাত সাপ আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে তাদের। তাড়াশে সাপের কামড়ে এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে সিরাজগঞ্জের বন্যাকবলিত চরাঞ্চলের মানুষদের মধ্যে।
এদিকে বন্যায় ভারতীয় সীমান্ত থেকে বিষধর প্রচুর সংখ্যক সাপ যমুনা নদী দিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলায় ঢুকে পড়েছে। বিচরণকারী সাপের মধ্যে ঢোঁড়া ও গোখরা সাপের প্রাদুর্ভাব বেশি। সাপের ভয়ে অনেক জায়গায় জেলেরা পানিতে মাছ ধরতেও সাহস পাচ্ছেন না।
গত মঙ্গলবার ভোরে চৌহালী উপজেলার ঘোরজান ইউনিয়নের কান্দা ঘোরজান গ্রামে সাপের ছোবলে কদবানু (৫২) নামের এক নারী ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের সাকোয়াদীঘি গ্রামে সিয়াম হোসেন (৮) নামে এক শিশু মারা যায়।
উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর মসিন্দাপাড়ার ষাটোর্ষ আব্দুল খালেক জানান, বন্যাকবলিত পাটগাড়ী পাড়া, বিলনাদো, মসিন্দাপাড়ায় বর্তমানে সাপ আতংকে কাটছে। এমন কোন বাড়ি নেই যে তারা সাপ আতংকে নেই। অনেকেই সাপের ভয়ে আতœীয়-স্বজনসহ আশেপাশে এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।
অপরদিকে একই গ্রামের আবুল কালাম বলেন, সাপ এর আতংকে স্ত্রী .সন্তান নিয়ে খুব ভয়ে আছি। বিস্বাস না করলে আমার ঘরে গিয়ে দেখেন বিসাক্ত সাপ কিভাবে অনড়গল ফসফস করছে। একেক সাপ দেখলে ভয়ে ঘুম হারাম হয়ে যায়।
তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী মাসুদ রানা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সাকোয়াদীঘি গ্রামের জিয়াউর রহমানের পুকুর বন্যার পানিতে ডুবে যাচ্ছিল। জিয়াউর ও তার ছেলে সিয়াম পুকুরপাড় জাল দিয়ে বেড়া দেয়ার সময় শিশু সিয়ামকে ভেসে আসা সাপ কামড় দেয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। এ ঘটনার পর থেকেই চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ অঞ্চলেও সাপ আতঙ্ক দেখা দেয়।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মনজুর রহমান জানান, দেশের বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পানি ছড়িয়ে থাকায় বিষধর সাপও উষ্ণ স্থানে অবস্থানের চেষ্টা করছে। আর এতে দেখা যাচ্ছে বন্যাকবলিতদের আশ্রয়স্থলেই সাপের উপদ্রব কিছুটা বেড়েছে। ফলে সারারাত সাপ আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে তাদের।