‘আমার চেয়ে মা কষ্ট করেছেন বেশী’

প্রকাশকাল- ০৮:১৪,আগস্ট ২, ২০১৭,খেলা বিভাগে

harmanঢাকা  : প্রত্যেক সফল ব্যক্তির সাফল্যের পেছনে কারো না কারো অবদান থাকে। তার অনুপ্রেরণা, সহযোগিতা আর ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই ক্যারিয়ারের স্বর্ণশিখরের দেখা পান মানুষ। ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য মোনা মেশরমের সাফল্যের পেছনের সেই মানুষটি তার মা ছায়া। মায়ের অনুপ্রেরণা আর সহযোগিতাতেই জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছেন ভারতের এই নারী ক্রিকেটার। মোনা নিজেই বলেছেন, ক্রিকেটার হয়ে উঠতে তিনি যতটা পরিশ্রম করেছেন, তার চেয়েও অনেক বেশী কষ্ট করেছেন মা ছায়া। মেয়েকে ক্রিকেটার বানাতে ছায়া করেছেন সম্ভব সবকিছুই।

এবারের নারী বিশ্বকাপে রানাসআপ হয়ে দেশে ফেরার পর থেকেই অভিনন্দন, সংবর্ধনা আর পুরস্কারের জোয়ারে ভাসছেন ভারতের নারী ক্রিকেটাররা। হাতের মোবাইলখানা মুহূ্র্েতর জন্যও টেবিলে রাখতে পারছেন না। একের পর এক ফোন আসছে। ফোন করে ক্রমাগত অভিনন্দন জানাচ্ছেন, আত্মিয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সমর্থক-শুভাঙ্খিরা। এর মধ্যে প্রতিনিয়তই হাজির হতে হচ্ছে বিভিন্ন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

সব মিলে অন্য সব সতীর্থের মতো নাগপুরের মেয়ের এখন প্রতিটি দিন কাটছে ব্যস্ততায়। সেই ব্যস্ততার ফাঁকেই গণমাধ্যমে দিতে হচ্ছে সাক্ষাৎকার। জানাতে হচ্ছে, ক্রিকেটার হয়ে উঠার গল্প। সেই গল্প বলতে গিয়েই মোনা জানালেন, তার চেয়েও তার মা বেশী পরিশ্রম করেছেন, দআমার সাফল্যের পেছনে আমার মায়ের অবদান বলে অপরিসীম। কার্যত আমি যতটুকু পরিশ্রম করেছি, আমার মা পরিশ্রম করেছেন তার চেয়েও বেশী। সাধারণত আমি সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অনুশীলন করতাম। বেশীর ভাগ সময়ই আমি সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার খেতে পারতাম না। মার কারণেই আমি অনুশীলন চালিয়ে যেতে পেরেছি। আমি যখন শহরে অনুশীলন করতাম, আমার মা ৫-১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আমার জন্য টিফিন, গ্লুকোজ, পানির বোতল নিয়ে যেত।’

ভারতের আর আর দশজন নারী ক্রিকেটারের মতোই মোনা দরিদ্র ঘরের সন্তান। কিন্তু মায়ের কারণেই পরিবারের সেই আর্থিক অস্বচ্ছলতা তার ক্রিকেটার হওয়ার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। মা সংসারের অন্য সব খরচ কমিয়ে মেয়েকে কিনে দিয়েছেন ক্রিকেট সরঞ্জাম। প্রশস্ত করেছেন স্বপ্ন পূরণের পথ। ‘আমাদের আর্থিক অবস্থা তেনম ভালো ছিল না। মা তাই চাইলে আমাকে কাজ করতে এবং সংসারের কাজে সাহায্য করার কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তা না করে মা আমার আমাকে স্বপ্ন পূরণের পথটাই তৈরি করে দিয়েছেন।’

এই মিসেস ছায়ার যে এতো ত্যাগ, এতো পরিশ্রম-তা বিফলে যায়নি। মেয়ে পূরণ করেছেন স্বপ্ন। এখন তিনি ভারতের অন্যতম ক্রিকেট তারকা। মেয়ে মোনার এই সাফল্যে মা ছায়া নিশ্চয় এখন গর্বিত।