আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যানের কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য চার ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশকাল- ১৮:৩৩,আগস্ট ১০, ২০১৭,চট্টগ্রাম বিভাগ বিভাগে

Alikadam 4 up ch Press Confarence.Picহাসান মাহমুদ, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :; আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যানের কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে আলীকদম উপজেলার চার ইউপি চেয়ারম্যান। গত বুধবার বান্দরবানের লামা উপজেলার জব্দকৃত চালের বিষয়ে আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে ‘বিভ্রান্তি’ সৃষ্টির করায় বৃহস্পতিবার উপজেলার চার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা বৃহস্পতিবার আলীকদম প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলেন লিখিত বক্তব্যে সদর ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বলেন, লামায় প্রশাসন কর্তৃক চাল আটকের ঘটনায় আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দেয়া বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার এই বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমান, নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ফোগ্য মার্মা ও কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ¤্রাে।
উল্লেখ্য, বুধবার লামা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ১৮৪ বস্তা চাল আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ মাধ্যমে আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালামের দেওয়া বক্তব্যের জেরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জানা যায়, জব্দ করা চালগুলি সেনাবাহিনীর রেশনের বৈধ চাল।
ইউপি চেয়ারম্যানদের দাবী, ‘উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোতি ও বানোয়াট। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আলীকদম উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) খাতে ১ কোটি ১১ লাখ বরাদ্দের অর্থ লুটপাটের বিরুদ্ধে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। মনগড়া ও অস্তিত্বহীন সংগঠনের নামে প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ লুটপাটের প্রতিবাদ করায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আমাদের মানহানি করার অপচেষ্টা করছেন’।
লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যানরা জানান, গত বুধবার লামা বাজারের একটি চালের দোকান থেকে ১৮৪ বস্তা চাল জব্দ করেন লামা উপজেলা প্রশাসন। চাল জব্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম কোন প্রকার যাচাই-বাছাই না করেই সংবাদ মাধ্যমে জানায়, চালগুলি আলীকদমের বিভিন্ন ইউনিয়নের। বিতরণ না করে সুযোগ বুঝে সংশ্লিষ্টরা কালোবাজারে বিক্রয় করে দিয়েছে’।
তারা বলেন, বৃহস্পতিবার আলীকদম ইউএনও কার্যালয়ে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রমাণিত হয়, লামায় জব্দকৃত চালগুলি সেনাবাহিনীর রেশনের চাল ছিল। সেগুলি ভিজিডির চাল নয়। লামায় জব্দ করা চালগুলো সিদ্ধ আর আলীকদমে যেসব ভিজিডির চার বিতরণ করা হয় তা হয় আতপ চাল। আলীকদমে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের সর্বশেষ বরাদ্দ গত জুন মাসের ভিজিডির চাল ইতোমধ্যেই সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, লামায় জব্দ করা চালগুলি ভিজিডির নয়। এগুলি সেনাবাহিনীর বিক্রিত রেশনের চাল ছিল। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে সেটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।