ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করাসহ ১১ দফা প্রস্তাব আওয়ামী লীগের

প্রকাশকাল- ০০:০২,অক্টোবর ১৯, ২০১৭,নির্বাচন বিভাগে

অনলাইন ডেক্সঃ

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিপক্ষে মত দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এছাড়াও ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করাসহ মোট ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয় দলটির পক্ষ থেকে। তবে ইসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপে ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত বিষয় নিয়ে সিইসিকে সতর্ক হয়ে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এ সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশের গণতন্ত্র, নির্বাচনের ইতিহাস এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়। সংলাপের শুরুতে যথারীতি বিএনপির মতো আওয়ামী লীগের প্রশংসা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে নির্বাচন নিয়ে আলোচনার সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে বক্তব্য দিয়েছেন সে প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসে। প্রায় ২ ঘণ্টার ২০ মিনিট বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জিয়াউর রহমানকে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার ব্যাখ্যা আমরা পেয়ে গেছি। কিন্তু তা বলতে চাই না। তিনি বলেন, ব্যাখ্যা দিতে হলে নির্বাচন কমিশন দেবে। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্য নির্বাচন কমিশনার ও সচিব সবার বক্তব্য ছিল ইতিবাচক। ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার বেলা এগারোটায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শুরু হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেদের নেতৃত্বে এই সংলাপে আওয়ামী লীগের ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে। সংলাপের শুরুতে আওয়ামী লীগকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যে বিএনপির মতো আওয়ামী লীগেরও ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। বিশেষ করে দেশের স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা ও আওয়ামী লীগের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলেন তিনি।

বেলা একটা ২০ মিনিটে বৈঠক শেষে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য করতে দলের উত্থাপিত ১১ দফা প্রস্তাবের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১১ দফা প্রস্তাব কমিশনে উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটে ইভিএম চালু করা, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বাংলায় করার উদ্যোগে আওয়ামী লীগের সমর্থন আছে, নির্বাচনে অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধে সংবিধানে বর্ণিত নির্বাচনসংক্রান্ত নির্দেশনা এবং বিদ্যমান নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ না করা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব হলো তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের জন্য প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ন্যস্ত থাকবে। সেনা মোতায়েন বিষয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা যাবে, তা ১৮৯৮ সালে প্রণীত ফৌজদারী কার্যবিধির ১২৯-১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালায় ইনএইড টু সিভিল পাওয়ার শিরোনামে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

তবে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রস্তবনার পাশাপাশি দেশে গণতন্ত্র নির্বাচনের ইতিহাস কমিশনের ভূমিকা এবং প্রেক্ষাপট নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আলোচনায় করা হয়েছে। এ সময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টানেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য উল্লেখ করা হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের হোতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের সংবিধান ও সব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেন। শুরু হয় স্বৈরশাসনের। স্বৈরশাসক জিয়া তার অবৈধ ক্ষমতার বৈধতা পাওয়ার চেষ্টায় ১৯৭৭ সালে প্রহসনের গণভোটের আয়োজন করেন। তাতে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার হারায় এবং সব গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতা চলে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর আরেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন পর্যন্ত।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে এ সময় আওয়ামী লীগের এক নেতা ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত বিষয় নিয়ে ইসিকে সতর্ক হয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি এসব বিষয়ে নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি না করার কথাও বলেন। জানা গেছে সিইসির এ ধরনের বক্তব্যের ভুল ব্যাখার অবকাশ থাকায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে ইসির পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে সব দলের সঙ্গে আলোচনার সময়ই দলটির প্রতিষ্ঠা এবং প্রোফাইল তুলে ধরা হয়। বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় সময় দলের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলার সময় এ বিষয়ে অবতারণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসির ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আর দুটি দলের সঙ্গেও সফলভাবে সংলাপ শেষ করা হবে।