কাল আমাদেরও হতে পারে রোহিঙ্গাদের মতো অবস্থা

প্রকাশকাল- ১৯:০২,সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭,মুক্ত চিন্তা বিভাগে

রোহিঙ্গা

তারেক খান

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সকে আরও তৎপর ভূমিকা পালন করতে হবে। কারন মায়ানমার আমাদের দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের এক নীল নকশা আঁকছে। আর এ জন্যেই তারা বারবার আমাদের  দেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে উস্কানিমূলোক কর্মকান্ড চালাচ্ছে। এই উস্কানিটা আসলে আমাদের জন্য একটা ফাঁদ। এই মুহূর্তে যে ফাঁদে পা দিলে আমরা ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হতে পারি। আর ওরা সেটায় চায়। মায়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে মুসলমান রোহিঙ্গাদের উপর যে বর্বর নির্যাতন চালিয়ে মানুষ খুন করছে তাতে আমাদের সবারি ইচ্ছে করছে ওদের একটা উচিৎ শিক্ষা দিতে। কিন্তু যেহেতু আমাদের সরকার কূটনৈতিকভাবে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে সেহেতু আমরা যদি এই মুহূর্তে মায়ানমারের বিরুদ্ধে কিছু করে বসি তাহলে জাতিসঙ্ঘের সহযোগীতা থেকে আমরা বঞ্চিত হব। কারন মায়ানমার তখন জাতিসঙ্ঘকে বলবে  বাংলাদেশই গায়ে পরে লাগতে এসেছে। তখন শুরু হবে ভয়াবহ এক যুদ্ধ। যুদ্ধ লাগলে ওরাই যে জিতবে তার কোন মানে নেই। যতোই ওদের  সেনাবাহিনী আমাদের চেয়ে শক্তিশালী হোক। কারন ১৯৭১ সালেও আমরা আমাদের দুর্বল সেনাবাহিনীকে নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ইনশাআল্লাহ আবারো জয়ী হবো। কিন্তু কথা সেটা না, কথা হলো যুদ্ধ শুরু হলে তা শেষ কবে হবে তা আমরা জানি না। আমরা এমনিতেই উন্নয়নশীল একটি দেশ। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়েই জর্জরিত। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশটিকে গুছিয়ে নিতেই দীর্ঘ সময় পেড়িয়ে গেছে। এখন যদি নতুন করে আরেকটি যুদ্ধে জরাই তাহলে হয়তো আবারো বিশ্বের কাছে পিছিয়ে পরতে পারি। তাই আমাদের সব দিকে বিবেচনা করে আগাতে হবে। ওদেরকে পাল্টা জবাব দেয়ার জন্যে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে হবে। ওরা বড় কোন ভুল করে বসলেই ওদের গলা চেপে ধরতে হবে। মায়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা আজ নতুন না। মায়ানমার দীর্ঘবছর ধরে বাংলাদেশের উপর গবেষণা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের উপর চূরান্ত নির্জাতন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারন বাংলাদেশ মায়ানমারকে গুরুত্ব না দিলেও মায়ানমার গোপনে ঠিকি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অংক কষে রেখেছে। মায়ানমার জানে এমন নির্জাতন করলেই রোহিঙ্গারা সব বাংলাদেশে গিয়ে আশ্রয় নিবে। তখন রোহিঙ্গাদের তারা আর ফিরিয়ে নিবে না, বাংলাদেশের ঘারেই তাদের চাপিয়ে দেবে। মায়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে পদ্ধতি অবলম্বন করছে তা হলো “মাছ মাড়ছে কিন্তু পানি ছুঁচ্ছে না”। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদেরও একই পন্থা অবলম্বন করতে হবে। আর সেটা হলো মায়ানমার যদি কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদেরকে সেই দেশের নাগরিকত্ব না দেয় তাহলে সেই ক্ষেত্রে আমাদের উচিৎ রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের লক্ষে তাদেরকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং তাদের অস্ত্র দিয়ে সহযোগীতা করে তাদেরকে দিয়েই মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করানো। তাছাড়া রোহিঙ্গাদের এই বিপুল জনগোষ্ঠীর ভার অচিরেই আমাদেরই বহন করতে হবে…। মায়ানমারের পরবর্তী টার্গেট বাংলাদেশ। বাংলাদেশে যে সমস্ত সংখ্যালঘু বৈদ্ধধর্মালম্বী আছে তারাই একসময় তার সহধর্মী মায়ানমারকে বাংলাদেশ দখলে গোপনে মায়ানমারের চর হিসেবে কাজ করবে। মায়ানমার অচিরেই যদি পরমাণু শক্তিধর দেশ হয়ে যায় তাহলে কাল আমাদের উপরও এমন বর্বরতা নির্জাতন চলবে। কারন তখন আমাদের পালানোর কোন পথ খোলা থাকবে না। আমাদের সাহায্য করতে কেউ এগিয়েও আসবে না। ভারত ও চিন নিজ স্বার্থে চোখ কান বুজে বসে থাকবে। তাই আমাদের নীরব বসে থাকলে চলবে না। মায়ানমারকে দমাতে হলে ওদের আগে আমাদের পরমাণু শক্তিধর দেশ হতে হবে। আমাদের আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা, সশস্ত্রবাহিনী এবং সরকারকে সবসময় চোখকান খোলা রাখতে হবে। আমাদেরকে অতীত ভুলে গেলে চলবে না। আমরাও ২০০ বছর ঔপনিবেশিক শাসন এবং ২৩ বছর পকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর কাছে পরাধীনতার গ্লানি বয়ে বেরিয়েছি। তাই নতুন করে আমরা আমাদের স্বাধীনতা হারাতে চাই না…।