কিংবদন্তিদের সারিতে সাকিব

প্রকাশকাল- ১০:০৫,অক্টোবর ৭, ২০১৭,খেলা বিভাগে

সাকিবঅনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘প্রথম’ তিনি। ক্রিকেটের তিন সংস্করণে প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে আইসিসি র্যাংকিংয়ের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের অতি দুর্লভ খেতাবটিও তাহার দখলে। তাহা ছাড়াও তাহার বর্ণিল ক্রিকেট ক্যারিয়ারে রহিয়াছে আরো বহু বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি। আমরা সাকিব আল হাসানের কথাই বলিতেছি। সম্প্রতি তাহার অর্জনের ঝাঁপিতে আরো একটি অনন্য রত্ন যোগ হইয়াছে। অন্য সব রত্নকে ছাপাইয়া ইহা অধিক উজ্জ্বলতর বলিয়াই প্রতীয়মান হয়। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী পহেলা অক্টোবর হইতে এই কৃতী ক্রিকেটারকে মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির সদস্য হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হইয়াছে। ফলে আইসিসিকে সুচিন্তিত মতামত প্রদান করিয়া ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদান রাখিবার মতো একটি বিরল সুযোগ তৈরি হইয়াছে তাহার জন্য। দেশবরেণ্য এই ক্রিকেটারের এই অর্জনে আমরা আনন্দিত, উচ্ছ্বসিত ও গর্বিত।

লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের স্বত্বাধিকারী মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবকে (এমসিসি) বর্তমানে ক্রিকেট-ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ১৭৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এমসিসির ভাবনা হইতেই ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে বিশ্ব ক্রিকেট কমিটি। স্বাধীন এই কমিটি বত্সরে দুইবার সভায় বসে। কমিটিতে বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি আম্পায়ারদেরও প্রতিনিধিত্ব থাকে। বর্তমান কমিটিতে সাকিবসহ ১৫ সদস্যের প্যানেলে রহিয়াছেন মাইক গ্যাটিং, রিকি পন্টিং, কুমার সাঙ্গাকারা, ইয়ান বিশপ, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও সৌরভ গাঙ্গুলির মতো সাবেক আন্তর্জাতিক তারকা ক্রিকেটাররা। এমসিসি সাধারণত বৈশ্বিক ক্রিকেটের আইন প্রণয়নেই নেতৃত্ব দিয়া থাকে। সমসাময়িক ক্রিকেটের আইন-কানুনসহ নানা পরিবর্তন ও ক্রিকেটের ভালো-মন্দ নিয়া তাহারা আইসিসিকে সুপারিশ করে। তবে এইসব সুপারিশ আইসিসির অনুমোদন সাপেক্ষেই বাস্তবায়িত হইয়া থাকে। সম্প্রতি ব্যাটের আকারসহ কার্যকর হওয়া নতুন কিছু আইনও তাহাদের সুপারিশ মানিয়াই অনুমোদন দিয়াছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সুতরাং গুরুত্বপূর্ণ এমন অবস্থানে সাকিবের উপস্থিতিও বিশ্ব ক্রিকেটের মানোন্নয়নের ধারাকে আরো বেগবান করিবে বলিয়া আমরা প্রত্যাশা করি।

সাকিব আল হাসানের এই অর্জনে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হইয়াছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের কেহ কেহ মনে করেন, তাহার এই অর্জন ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী সার্বজনীন করিতেও সহায়ক হইবে। ইহা আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা এমন অর্জনের জন্য স্বনামধন্য এই ক্রিকেটারের প্রতি জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন। আমরা তাহার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে আরো সাফল্য কামনা করি।