কুলাউড়ায় নারী নিয়ে নাটকিয়তা

প্রকাশকাল- ২২:২৩,আগস্ট ২১, ২০১৭,সিলেট বিভাগ বিভাগে

kulaura picমশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার ঃ কুলাউড়ায় এক বিবাহিত নারীকে নিয়ে নাটকিয়তার পর সর্বশেষ ৩শত টাকার বিনিময়ে হিল্লা বিয়ে দিয়ে ঘন্টা দেড়েক আলাদা ঘরে সংসার করে এক নিরীহ ও বোকা প্রকৃতির গেন্দু মিয়াকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে সাদা কাগজে কাবিননামা লিখে বিয়ে দেয়া হয়েছে এক জনৈক মহিলাকে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশে একটি লিখিত অভিযোগ ও ঐ বোঝা থেকে তার পিতাকে মুক্তির জন্য গেন্দু মিয়ার পুত্র নজরুল সংবাদকর্মীদের সহযোগীতা কামনা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে গত ১৩ আগস্ট রাতে। জানা যায়, ভাটেরা ইউনিয়নের এক নিরীহ ও বোকা প্রকৃতির লোককে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে সাদা কাগজে কাবিননামা লিখে বিয়ে দেয়া হয় জনৈক মহিলাকে। সেই মহিলা তার আগের স্বামী আছে জানালে আয়োজন করা হয় হিল্লা বিয়ের। শেষতক গত ১৯ আগস্ট রাতে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন কুলাউড়া থানায় করেন আকুল মিয়া । সুত্র জানায়, বিএনপি থেকে সদ্য আওয়ামীলীগে যোগদানকারী দলের একাংশের ইউনিয়ন সম্পাদকের পদে অধিষ্টিত বদরুল আলম সিদ্দিকী নানুর নেতৃত্বে এক হিল্লা বিয়ের ঘটনা। এটা অনেকেই নানু গংদের অপকর্ম ঢাকতেই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন । আর এর গ্যাড়াকলে পড়ে কয়েকদিন প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ট হয়ে থাকা সেই নারীর বোঝা এখন স্থানীয় এলাকার নিরীহ গেন্দু মিয়ার উপর। থানায় লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট ভাটেরা বাজারের ব্যবসায়ী ও ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ (একাংশের) সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম সিদ্দিকী নানু মোবাইল ফোনে গেন্দু মিয়ার প্রতিবেশী আকুল মিয়াকে জানান, গেন্দু ভাটেরা বাজারে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তিনি নানুর কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নানু কোন সূদুত্তর দেননি। রাত ১ টার দিকে বাড়ীতে ফিরে দেখেন- গেন্দু মিয়ার সাথে জোরপূর্বক সিলেটের ধারল গাজীপুর এলাকার মোঃ মনাফ মিয়ার মেয়ে রেজিয়া বেগম নামের ওই মহিলাকে বিয়ে দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী বদরুল ইসলাম সিদ্দিকী নানু, দপ্তর সম্পাদক মাইজগাঁও গ্রামের আব্দুল হান্নান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ , সভাপতি শওকত মিয়া। মহিলাটি এসময় জানায়, তার আগে বিয়ে হয়েছিলো ওই স্বামীর সাথে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। এসময় তাকে ৩শ টাকা কাবিনে হিল্লা বিয়ে দেয়া হয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি শওকত আলীর সাথে। ঘন্টা দেড়েক আলাদা ঘরে সংসার করে ৩শত টাকা পরিশোধ করে রেজিয়া বেগম নামের ওই মহিলাকে তালাক দেন শওকত আলী। পরে স্থানীয় মাওলানা সাইফুল আলমকে এনে কোন কাবিন রেজিষ্ট্রি ছাড়া সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে গেন্দু ও রেজিয়ার বিয়ে পড়িয়ে দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন জানান- মহিলাকে আনা হয় মুলত প্রভাবশালীদের খায়েশ মেটাতে। নিজেদের খায়েশ পূরন করে আরেকজন স্থানীয় আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি শওকত মিয়ার আছে হিল্লা বিয়ে দিয়ে তারপর ঐ মহিলার বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় স্থানীয় এলাকার নিরীহ গেন্দু মিয়ার উপর। গেল কয়েকদিন আগে গেন্দু মিয়ার স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি এখনো শোকে কাতর। এরই মধ্যে প্রভাবশালীদের গ্যাড়াকলে মহিলার বোঝা নিয়ে দিশেহারা এখন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ভাটেরাসহ কুলাউড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অথচ গেন্দু মিয়ার বড় বড় সন্তান সন্তুতি রয়েছে। গেন্দু মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম জানান- আমরা ২ ভাই, ২ বোন। আমাদের মা তিন মাস আগে মারা গেছেন। আমাদের মতামত না নিয়ে গভীর রাতে আমাদের বাবার সাথে ওই মহিলাকে তারা বিয়ে পড়িয়ে দেন। আমরা ঘুম থেকে উঠে মহিলাটি দেখতে পারি। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে আমাদের নানা হুমকি ধামকি দেন। মহিলাটি দিনে কোথায় চলে যায়, রাতে আবার ফিরে আসে। আমরা এখন ওই মহিলার কবল থেকে মুক্তি চাই।