ক্রমাগত লোকসানে ধান চাল ব্যবসায়ীরা পুরো মৌসুমে ও ৬০ শতাংশ মিল চাতাল বন্ধ

প্রকাশকাল- ১১:২২,ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭,জাতীয়, স্লাইডশো বিভাগে

চাতাল বন্ধইকবাল কবীর রনজু ঃ শেষ হলো অগ্রহায়ন মাস। কৃষক জমি থেকে আমন ধান, বীনা সেভেন, ব্রীধান উনচল্লিশ, স্বর্ণাসহ বিভিন্ন জাতের ধান কেটে ঘরে তুললো। তার পরও বাজারে ধানের সংকট চলছে। আমনসহ এ মৌসুমের অন্যান্য ধান পাকার পূর্বে ধান চাল ব্যবসায়ীদের (মিল চাতাল) ব্যবসা প্রায় বন্ধ ছিল। ১০ শতাংশ ব্যবসায়ীর ব্যবসা এসময় সচল ছিল। ৯০ শতাংশ বন্ধ ছিল। সচল ১০ শতাংশ ব্যবসায়ীর পাশাপাশি ধান ওঠার পর নতুন ৩০ শতাংশ ব্যবসায়ী ব্যবসা শুরু করে। ব্যবসায় ক্রমাগত লোকসান দেখে ৬০ শতাংশ ব্যবসায়ী এখনো তাদের ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন। যে ৪০ শতাংশ ব্যবসায়ী ব্যবসা করছেন তারা প্রতিনিয়ত লোকসান গুনছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমান চাটমোহরের হাট বাজারে প্রতিমন আমন ধান এক হাজার ত্রিশ টাকা, বিনা সেভেন এগারো’শ টাকা, উনচল্লিশ এগারো’শ টাকা, উনত্রিশ ধান এগারো’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ দামে ব্যাপারীদের নিকট থেকে ধান কিনে মিল চাতাল মালিকরা চাল তৈরী করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। চাটমোহরের বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ভাই ভাই রাইসমিলের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ মোতালিব হোসেন জানান, “ব্যাপারীদের নিকট থেকে এক মন আমন ধান আমাদের কিনতে হচ্ছে ১০৩০ টাকায়। প্রতিমন ধানে লেবার বিল, ভাঙ্গানো খরচ ও বস্তার দাম মিলে খরচ পরছে ৮০ টাকা। এক মন ধান থেকে চাল তৈরী করতে খরচ আসছে ১ হাজার ১শ ১০ টাকা। এক মন ধানে চাল হচ্ছে ২৭ কেজি। প্রতি কেজি চালের দাম পরছে ৪১ টাকার উপরে। ৫০ কেজি আমন চালের বস্তায় খরচ পরছে ২ হাজার ৫৫ টাকার কাছাকাছি। ক্ষুদ গুড়া বাবদ ৫৫ টাকা বাদ দিলেও খরচ থাকছে ২ হাজার টাকা। সেখানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা আমন চাল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৪০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। প্রতি বস্তা আমন চালে লোকসান যাচ্ছে দেড়শ টাকা। বিনা সেভেন, উনচল্লিশ, নতুন উনত্রিশ ধানের দাম প্রায় একই। প্রতিমন ১ হাজার ১শ টাকা। এ ধান গুলো থেকে চাল তৈরী করতে প্রতি মনে ৮০ টাকা খরচ। এসকল প্রতিমন ধানে চাল হচ্ছে ২৬ কেজি করে। প্রতি কেজি চালের দাম পরছে ৪৫ টাকার উপরে। ৫০ কেজি চালের বস্তায় খরচ আসছে ২ হাজার ২৬৯ টাকার মত। ক্ষুদ গুড়া বাবদ ১২০ টাকা বাদ দিলেও ৫০ কেজির বস্তায় খরচ থাকছে ২ হাজার ১৪৯ টাকা। সেখানে ৫০ কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯৫০ টাকায়। বস্তা প্রতি লোকসান যাচ্ছে প্রায় ২শ টাকা। গত বোরো মৌসুমে বাজারে চালের দাম ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা কেজি ছিল। সরকার সেসময় চাউলের রেট প্রতি কেজি ৩৪ টাকা নির্ধারণ করলে লোকসানের আশংকায় অধিকাংশ মিল মালিক গোডাউনে চাল দেয় নি। আমরা কয়েকজন গত বছর গোডাউনে চাল সরবরাহ করে লোকসান গুনেছি। এবারো চাটমোহরের প্রায় ৮০ জন মিল মালিকের মধ্যে মাত্র কয়েকজন সরকারের সাথে চাল সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এবং লোকসানের আশংকায় আছে ”।
জানা গেছে, চাটমোহরে কোন অটো রাইসমিল নেই। অটো মিলে প্রসেস খরচ কম। বাজারে ধানের সংকট থাকায় চাটমোহরের পাশর্^বর্তী এলাকাগুলোর অটো মিল মালিকরা বেশী দাম হলেও মিল সচল রাখতে বাধ্য হয়ে ধান কিনছেন। ধানের বাজার উর্ধ্বমুখী হওয়ায় কৃষক ও বেশি দামের আশায় খুব প্রয়োজন ছাড়া ধান বিক্রি করছেন না। যোগান কম এবং অটো মিলার দের অধিক ধান ক্রয়ের ফলে হাকসিন মিলের মালিকরা ধান কিনতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে হাটে ধান ভ্যান বা অন্য যানবাহনের উপরে থাকতেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। খুচরা বাজারে এর চেয়ে ও কিছু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল।