গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে বিরোধ

প্রকাশকাল- ২২:০৩,এপ্রিল ২১, ২০১৭,ঢাকা বিভাগ বিভাগে

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই নিয়ে বিরোধে ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকালে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি গ্রুপ আসল মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতি নামে একটি কমিটির ঘোষনা দিয়েছেন।

জানা যায়, উপজেলা সভাকক্ষে সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির পূর্বনির্ধারিত সভা চলে।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল আলম খান বেনুর সভাপতিত্বে সভায় কমিটির অপর ৬ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন কামাল উদ্দিন নান্নু, বজলুর রশিদ মোল্লা, সিরাজ উদ্দিন, খালেকুজ্জামান, ইমাম উদ্দিন, কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাকছুদুল ইসলাম। যাচাই বাছাইয়ে দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে কমিটির সদস্যরা তালিকা প্রনয়নে প্রকৃত ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা এই প্রশ্নে দি¦ধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। ওই সময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বজলুর রশিদ মোল্লার নেতৃত্বে সভা থেকে ৫ জন ওয়াক আউট করেন। পরে ইউএনও এর হস্তক্ষেপে পুনরায় সদস্যরা সভা কক্ষে ফিরে আসেন। তার পরেও আলোচনায় যাচাই বাছাইয়ে ব্যর্থ হয়ে কোন প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়ে যায়। সভা থেকে বের হয়ে বজলুর রশিদ মোল্লা বাহিরে অপেক্ষমান সব মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা ঐক্যমতে পৌঁছেছি অচিরেই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাকছুদুল ইসলাম জানান, কমিটির সদস্যরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ায় সভাটি মুলতবী করা হয়েছে।

পরে উপজেলা সভাকক্ষে বিকালে ৩০/৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি মাহমুদুল আলম খান বেনু বলেন, আমি সব সময় ন্যায়ের পক্ষে। সুতরাং আমি চাই তালিকায় যেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকে। আর যারা দালালী করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আড়াল করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চেষ্টা করে আমি যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হয়ে তা হতে দিতে পারি না। তিনি যাচাই বাছাই কমিটির অনেকের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অভিযোগ উঠেছে জানান।

পরে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ অলিউল্লাহ সিকদারকে আহবায়ক এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোঃ মাইন উদ্দিন ও এম এ গনিকে যুগ্ম আহবায়ক করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কল্যান সমিতি নামে একটি নতুন কমিটি ঘোষনা করেন।

উল্লেখ, তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার জন্য অনলাইনে ২৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধা আবেদন করেন। পরে যাচাই বাচাই কমিটি ৪ টি সভা করেও প্রকৃত তালিকা প্রনয়ন করতে ব্যর্থ হন।