গুরুদাসপুরে চলছে অভিনব কায়দায় পাখি শিকার

প্রকাশকাল- ১৭:৪৬,নভেম্বর ২৪, ২০১৭,চলনবিলের সংবাদ বিভাগে

নাটোর প্রতিনিধি.
gurudaspur pic (2) -24-11-2017বাঁশের খুটি, কলা পাতা, খেজুর ডাল বা বেতের পাতা। এসব উপকরণ দিয়ে অভিনব কায়দায় তৈরি করা ফাঁদ। ৬ থেকে ৭ ফুট উঁচু। ফাঁদের সামনে বাঁশের ওপর শিকারী বক বেঁধে রাখা হয়। দল বেঁধে উড়ে যাওয়া সময় ওই শিকারী বককে ডাকতে বাধ্য করে শিকারী। তখন বকের ঝাঁক এসে শিকারী বকের পাশে থাকা অভিনব ঘরের ওপর এসে বসে। বসলে ওই বক গুলোর পা ভিতরে ঢুকে পড়ে। এসময় ঘরের ভিতর থাকা শিকারী বকগুলোর পা ধরে নিচে নামিয়ে খাঁচায় ভরে।
এভাবেই প্রতিদিন ভোরে পাখি শিকারিরা চলনবিলের বিভিন্ন ছোট বিলে ফসলের মাঠে সারি সারি করে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করছে। আবার এক শ্রেণির শিকারিরা বিষটোপ-বড়শি দিয়ে রাতের অন্ধকারে জাল পেতে বকসহ নানা প্রকার অতিথি পাখি শিকার করছেন। প্রতিদিন বিকাল থেকে গভীর রাত আর ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত পাখি শিকারী পাখি শিকার করে চলছেন। শিকার করা এসব পাখি প্রকাশ্যে হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিলের পানি আস্তে আস্তে নেমে যাওয়ায় চলনবিলের খাল-বিল, জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। শুকিয়ে যাওয়া এসব জলাশয়গুলোতে মিলছে পুঁটি, খলসেসহ বিভিন্ন ছোট ছোট দেশীয় প্রজাতির দেশী মাছ। এসব মাছ খাওয়ার লোভেই চলনবিলে আশ্রয় নিয়েছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। কিন্তু কিছু লোভী মানুষ সুযোগ নিয়েছে এ সব পাখি শিকারে।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নারি বাড়ী গ্রামের হানিফ নামের এক বক শিকারি বলেন, প্রতি জোড়া বক তারা ১২০ টাকা ১৫০ টাকায় বিক্রি করি। অনেকদিন ১৫/২০টি বক পাই আবার অনেকদিন কোন বক পাওয়া যায় না।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা ফরেষ্টার মিজানুর রহমান জানান, আমরা তৎপর রয়েছি। কোন ভাবেই পাখি শিকার করতে দেয়া হবেনা।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এব্যাপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি। তবে অতিথি পাখি শিকারীদের ধরে আইনের আওতায় আনা হবে।