চার ইউপি চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ আলীকদমে এডিপির প্রকল্পে কোটি টাকার ভাগাভাগি

প্রকাশকাল- ১৬:২২,আগস্ট ৬, ২০১৭,চট্টগ্রাম বিভাগ বিভাগে

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি || পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদমে ২০১৬-’১৭ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) ১ কোটি ১১ লাখ টাকায় গৃহীত ৭৯টি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবিষয়ে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চার জন ইউপি চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসক বান্দরবান এর বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্তের দাবি করেন।
অভিযোগে প্রকাশ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকার বিপরীতে সাধারণ খাতে ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় ৫০টি প্রকল্প এবং বিশেষ খাতে ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকায় ২৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প বাছাই, প্রস্তুতকরণ ও অনুমোদন পদ্ধতিতে মানা হয়নি ‘উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল নিদেশিকা’। প্রকল্প বাছাই, প্রস্তুতকরণ ও অনুমোদন পদ্ধতিতে মানা হয়নি স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশিকা। উপজেলা চেয়ারম্যান নিজের আখের গোছাতে ভূয়া ও মনগড়া প্রকল্প গ্রহণ করেন। অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন ১নং আলীকদম ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, ২নং চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমান, ৩নং নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ফোগ্য মার্মা ও ৪নং কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ¤্রাে। তারা সকলেই বিগত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান।
অভিযোগে আরো বলা হয়, এসব প্রকল্পের কাজে ব্যপক হারে নিয়ে দুর্নীতি করা হয়েছে। অর্থবছর শেষ হলেও অনেক প্রকল্পের কাজ না করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করা হয়।
উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করে তদন্ত দাবী করলেও প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দুর্নীতি হয়নি বলে দাবী করেন ইউএনও এবং উপজেলা প্রকৌশলী।
স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা বলা আছে, ‘ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আহবান করে তাঁদের উপস্থিতিতে প্রণীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পরীক্ষা ও বাছাই করবেন। কমিটি প্রকল্পগুলো বাছাই চূড়ান্ত করে উপজেলা পরিষদ সভায় পেশ করবে’। কিন্তু সংশ্লিষ্ঠ কর্তাব্যক্তিরা এসবের তোয়াক্কা না করেই মনগড়া প্রকল্পের তালিকা তৈরি করে সরকারী টাকা তছরুপ করছেন। নিয়মানুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে উপ-বরাদ্দের চিঠি দেয়া হয়নি। এডিপির অর্থবরাদ্দের বিষয় গোপন করে অর্থবছরের শেষের দিকে তড়িগড়ি করে উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশনামতে মনগড়া প্রকল্প নিয়ে আত্মসাতের সুযোগ করা হয়। অস্তিত্বহীন সংগঠনের নামেও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বলেন, এক ইউনিয়নের মেম্বারকে অন্য ইউনিয়নের প্রকল্পের কমিটির ‘পিআইসি’ করা হয়। এতে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাঝে পরিকল্পিতভাবে বিরোধ তৈরি করছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। একই অভিযোগ অন্য তিনজন ইউপি চেয়ারম্যানদেরও।
নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ফোগ্য মার্মা ও কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপং ¤্রাে বলেন, সরকার প্রধানের অভিপ্রায়ে আলীকদমের দুইটি ইউনিয়নকে বিভাজন করে ৩নং নয়াপাড়া ও ৪নং কুরুকপাতা ইউনিয়ন গঠিত হয়। নবগঠিত এ দু’ইউনিয়নের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন অগ্রাধিকার প্রকল্প গ্রহণের কথা। নবগঠিত ইউনিয়ন দুইটিতে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে বিমাতাসূলভ আচরণ করে উপজেলা পরিষদ।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী হেলালুর রহমান বলেন, এডিপির অর্থে এমন সুন্দর করে অতীতে আলীকদমে কোন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হয়নি। নির্দেশিকা মেনে সব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো দুর্নীতি হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের কোন অভিযোগ আমার জানা নেই। নানা কারণে কিছু প্রকল্প দেরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে শীঘ্রই সব প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালামের মুঠোফোন নম্বর ০১৮৩৬১৫৫৫১৮-এ বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয় সংবাদিকরা কয়েকদফা ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।