চাল আসছে দাম কমছে

প্রকাশকাল- ১০:৫৭,জুলাই ৮, ২০১৭,অর্থনীতি বিভাগে

চালআমদানি বাড়ায় চালের দাম কমতে শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চালে এক থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত কমেছে। দাম কমেছে মিল পর্যায়েও। যদিও খুচরা পর্যায়ে দামের খুব একটা হেরফের হয়নি। শুধু মোটা চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মোটা চালে ২ থেকে ৩ টাকা ও সরু চালে ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,  সরকার চাল আমদানিতে শুল্ক কমানোয় আমদানি বেড়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বাদামতলী-বাবুবাজার চালের আড়তে মোটা চাল বিআর-২৮, গুটি ও স্বর্ণা কেজিপ্রতি ৪২ থেকে ৪৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব চাল ৪৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৪৬ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হয়েছে। সরু চাল মিনিকেট বা নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৩ টাকা কেজি। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫২ থেকে ৫৪ টাকা কেজি। এছাড়া মিল পর্যায়ে প্রতি কেজি চালে মানভেদে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে খুচরাবাজারে দাম খুব একটা কমেনি। শুধু মোটা চালে কমেছে ২ টাকা।
গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেট ও শান্তিনগর বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল মানভেদে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা বিক্রি হয়। যা আগে ছিল ৪৬ থেকে ৫০ টাকা। সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ৫৬ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
শান্তিনগর বাজারের চাল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম কেজিতে ২ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সরু চালের দাম সেভাবে না কমলেও বাজার নরম। মনে হচ্ছে এ সপ্তাহে সব ধরনের চালের দামই কমবে।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, শুল্ক কমানোয় বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুর চাল আমদানি হচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে আমদানির চালও কয়েক দিনের মধ্যে এসে যাবে। তখন বাজার অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাদামতলী-বাবুবাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনও একই রকম মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লায়ের আলী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, মিল পর্যায়ে সব ধরনের চাল কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত কমেছে। দাম আরো কমবে বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকার আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করায় আমদানিকারকরা চাল আমদানিতে উৎসাহিত হয়েছে। ফলে চালের বাজারে স্বস্তি ফিরছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রাথমিকভাবে সরকার ৬ লাখ টন চাল আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে ঘাটতি পূরণে আমদানির পরিমাণ ১০ থেকে ১৫ লাখ টন পর্যন্ত হতে পারে। ১২ জুলাইয়ের মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল আসছে। প্রতি টন চালের দাম পড়েছে ৪৩০ থেকে ৪৭০ ডলার। এই চাল এলে বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আরো দেড় লাখ টন চাল আমদানির জন্য সরকার দরপত্র আহবান করেছে।
উল্লেখ্য, এবার হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যায় ফসলহানি ও ব্লাস্ট রোগে বোরোর আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে। এতে সারাদেশে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। গত বছর যে মোটা চালের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩২ টাকা। তা বাড়তে বাড়তে ৫০ টাকায় পৌঁছায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে ভোক্তারা।