চুরির অপবাদে ছাত্রীর মুখে গামছা বেঁধে নির্যাতন

প্রকাশকাল- ২১:১৩,আগস্ট ১১, ২০১৭,সারাবাংলা বিভাগে

1502458876একশ’ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বরিশালের গৌরনদীতে সুমাইয়া (৮) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রীর মুখে গামছা বেঁধে তিন মহিলা শিক্ষক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সদরের খাদিজাতুল কোবরা (রা.) মহিলা কওমি মাদ্রাসার আবাসিক হলে।
নির্যাতিতা ওই ছাত্রীর মা রেনু বেগম জানান, প্রায় সাড়ে তিনবছর পূর্বে তার মেয়ে কামরুন নাহার সুমাইয়াকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। এরপর থেকেই তাকে মাসিক তিন হাজার টাকা চুক্তিতে মাদ্রাসার আবাসিক হলে রাখা হয়। রেনু বেগম অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকালে মাদ্রাসার এক ছাত্রী গোপনে তাকে ফোন করে জানায় মাদ্রাসার তিন নারী শিক্ষক সুমাইয়াকে রাতে মারধর করেছেন। খবর পেয়ে তিনি সকাল ১০টার দিকে সুমাইয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এসময় মাদ্রাসার সুপার খাদিজা বেগম (বড় খালামনি হিসেবে পরিচিত) তাকে জানায়, অপর এক ছাত্রীর একশ’ টাকা চুরির ঘটনায় সুমাইয়াকে শাসন করা হয়েছে। তবে কোন ছাত্রীর টাকা চুরি হয়েছে তা তিনি (সুপার) বলতে পারেননি।
নির্যাতিতা শিশু ছাত্রী সুমাইয়ার মা রেনু বেগম আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে একশ’ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে মাদ্রাসার সুপার, মেঝ খালামনি ও বাংলা খালামনি তার মেয়ে সুমাইয়ার মুখে গামছা বেঁধে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেনু বেগম বলেন, বড় খালামনির নির্দেশে মুখে গামছা বাঁধার পর মাদ্রাসার আবাসিক হলের মেঝ খালামনি গুনে গুনে তাকে ৬০টি ও বাংলা খালামনি ১০০টি বেত্রাঘাত করেছেন। এতে তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরেও তাকে রাতের খাবার দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
অভিযোগের ব্যাপারে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল ইসলামের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যেকোন অপরাধ করলে কওমি মাদ্রাসায় শাস্তি দেয়ার বিধান রয়েছে। এ আইন সারাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে প্রচলিত। তাই টাকা চুরির ঘটনায় ছাত্রী সুমাইয়াকে মাদ্রাসার খালামনিরা (শিক্ষক) শাসন করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেননি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’