চে একটি চেতনার নাম

প্রকাশকাল- ১৮:৪৫,অক্টোবর ৯, ২০১৭,মুক্ত চিন্তা বিভাগে

আকাশ ইকবাল

বিপ্লবীরা নিছক ব্যক্তি নন, একটি চেতনার নাম। ষাটের দশক থেকেই বিশ্ব বুঁদ হয়ে আছে লেনিন, মার্কস, অ্যাঙ্গেলস, চে, মাও সে তুং, শিবদাস ঘোষ, ক্যাস্ট্রোর বিপ্লবী চেতনায়। আমার খুব কষ্ট লাগে মাঝে মাঝে, যদি সেই বিল্পবীদের সময়ে জন্ম হতো আমার? তাহলে হয়তো লেনিন, মার্কস, অ্যাঙ্গেলস, চে, ক্যাস্ট্রোর নামের পাশে আমার নামটাও থাকতো। দুঃখ নেই তাদের সময়ে জন্ম না হওয়াতে। এরপরও আমি বলব, আমি খুব সৌভাগ্যবান, তাদের জন্মের আগে জন্ম নিয়ে আমার মৃত্যু হয়নি। আমি সৌভাগ্যবান এই জন্যই যে, তাদের মৃত্যুর পর হলেও আমার জন্ম হয়েছে। কোথাও কোথাও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পতন ঘটেছে, চলে গেলেন শেষ বিপ্লবীও। তবুও বিপ্লবী চেতনার বিনাশ হয়নি, বিপ্লবীদের মৃত্যু হয়নি। সভ্যতা যতদিন টিকে থাকবে, সাম্যের বিশ্ব গড়ার সংগ্রাম ততদিন চলবে। ততদিনই বেঁচে থাকবেন লেনিন, মার্কস, অ্যাঙ্গেলস ক্যাস্ট্রো, মাও সে তুং আর চে গুয়েভারা ।
৯ অক্টোবর দিনটি গোটা বিশে^র বিপ্লবী চেতনা ধারী মানুষের জন্য শোকের দিন। ৯ অক্টোর চির অমর বিপ্লবী চে গুয়েভারার অর্ধশত মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৬৭ সালে বলিভিয়ার এক জঙ্গলে বিপ্লবী গেরিলা বাহিনী সহ চে গুয়েভারা সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। সে বছরই ৯ অক্টোবর চে গুয়েভারাকে নির্মম ভাবে হত্যা করে। ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর আজ থেকে ৫০ বছর আগে মারা গেছেন বিপ্লবী চে গুয়েভারা। কিন্তু গত ৫০ বছর ধরে বিপ্লবের প্রতীক হয়ে বিপ্লবী মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন চে গুয়েভারা।
বিপ্লবীদের নেই কোন দেশ। তারই ছাক্ষুস প্রমাণ চে গুয়েভারা। জন্মেছিলেন লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায়। নিজ দেশের মানুষকে নতুন ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়ে থেমে থাকেননি। চলে গেছেন মেস্কিকো। এরপর কিউবায়। চে কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সহযোগে গেরিলা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে বিল্পব ঘটিয়ে মানুষকে মুক্তি দিয়েছেন। তুরুণ বয়সে সমগ্র লাতিন আমেরিকা ভ্রমণ করতে গিয়ে চে দেখেন ওই সব অঞ্চলে সর্বব্যাপী দারিদ্র তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করে। এই ভ্রমণকালে তাঁর অর্জিত ও পর্যবেক্ষণের তিনি বুঝতে পারেন, এই অঞ্চলে বদ্ধমূল অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণ হলো একচেটিয়া পুঁজিবাদ, নব্য ঔপনিবেশিকতাবাদ ও সা¤্রাজ্যবাদ। তিনি উপলব্ধি করেন এর সমাধান হলো বিল্পব। এই থেকে তার বিল্পবী রাজনীতি শুরু।
সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি চেয়েছিল চে’কে হত্যা করে চে’র আদর্শকে এই পৃথিবী থেকে মুছে দিতে। কিন্তু চে’কে দৈহিক ভাবে হত্যা করা সম্ভব হলেও তার আদর্শকে ধ্বংস করতে পারেনি লুটেরা শক্তি। আজো পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবি ও মুক্তিকামী মানুষ চে’র আদর্শকে ধারন করে। চে’র দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে শোষিত মানুষ, জন্ম হয় হুগো শ্যাভেজ বা ইভো মোরালেসদের মত নেতাদের। চে’র আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই একদিন পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত হবে শোষনহীন মানবিক সমাজ। চে বেঁচে থাকবেন গণমানুষের হৃদয়ে। লেখক: শিক্ষার্থী ও সংবাদ কর্মী।