জিয়া অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন

প্রকাশকাল- ১৪:২১,আগস্ট ৯, ২০১৭,রাজনীতি বিভাগে

খালেদা জিয়াঢাকা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে আজ বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী এবং তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ভূইয়া। এ ছাড়া দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

খুরশীদ আলম খান জানান, এ মামলায় ২০০৮ সালে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। কিন্তু দুদককে তখন পক্ষভুক্ত করা হয়নি। সম্প্রতি পক্ষভুক্ত হতে দুদক আবেদন করার পর হাইকোর্ট তা মঞ্জুর করেন।

তিনি আরও বলেন, রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল মঞ্জুর করেন আদালত। অর্থাৎ এ মামলায় খালেদা জিয়া স্থায়ী জামিন পেয়েছেন। তবে জামিনের অপব্যবহার করলে বিচারিক আদালত তার জামিন বাতিল করতে পারবেন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আগেই জামিনে রয়েছেন। আজ (বুধবার) এ রায়ের ফলে তিনি (খালেদা জিয়া) দুই মামলাতেই স্থায়ী জামিন পেলেন।

এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলা করে দুদক। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওই সময়ে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারও দেখানো হয়।

হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২০০৮ সালের ২৬ অগাস্ট বিএনপি চেয়ারপারসনকে অন্তর্র্বতীকারীন জামিন দিয়ে রুল জারি করে। তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না, তার কারণ জানাতে চাওয়া হয় সেই রুলে।

সরকার ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলেও হাইকোর্টের দেওয়া জামিন সে সময় বহাল থাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া মুক্তি পান এবং পরে নিম্ন আদালত থেকেও এ মামলায় তাকে জামিন দেয়া হয়।

তদন্ত শেষে দুদক ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তার ৫ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ৬ আসামির বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে।

বিচার কার্যক্রম চলার সময়ে লন্ডনে অবস্থান করায় এ মামলায় খালেদার জামিন বাতিলের আবেদন করেছে দুদক, যা ওই আদালতে আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে ন্যয়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে খালেদা জিয়া এ মামলায় চতুর্থবারের মত বিচারক বদলের আবেদন করেছেন, যা হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।