ডায়েট পানীয়তে বাড়ে স্ট্রোক ঝুঁকি

প্রকাশকাল- ১১:৩৩,আগস্ট ১০, ২০১৭,ফিচার বিভাগে

1501989038‘জিরো ক্যালরির’ নিশ্চয়তা দিয়ে কোমল পানীয় উৎপাদন করার জন্য কোম্পানিগুলো সাধারণত কৃত্রিম সুইটেনার ব্যবহার করে। গরমের মধ্যে ঠান্ডা পানীয় পান করার সময় নিশ্চিতভাবেই দারুণ লাগে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, কৃত্রিমভাবে মিষ্টি করা নানা ব্রান্ডের এই সফট ড্রিংকসগুলো স্ট্রোকসহ নানা ধরনের মানসিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে কৃত্রিমভাবে মিষ্টি করা এই সব ডায়েট ড্রিংক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার মধ্যে যদিও প্রকৃত কোন কারণ ও প্রভাব সম্পর্ক নির্ণয় করতে পারেননি গবেষকরা। একারণে কিছু বিশেষজ্ঞ গবেষকদের এই যুক্তির সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
কারণ এই গবেষণায়, মিষ্টি কোমল পানীয়, মিষ্টি সোডা, ফলের জুস এবং ফলের ড্রিংকসের সাথে এই ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কোন সম্পর্ক খুঁজে পায়নি গবেষকরা।
বোস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের নিউরোলোজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো ম্যাথু পেস বলেন, ডায়েট পানীয় এবং  স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিষয়ক খুব কম তথ্য উপাত্ত রয়েছে আমাদের হাতে। ৪৫ বছরের উর্ধ্বের ২৮৮৮ জন এবং ৬০ বছরের উর্ধ্বের ১৪৮৪ জনের ওপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়। তবে এ বিষয়ে আরো বেশি নিশ্চিত হতে হলে এ সম্পর্কিত আরো গবেষণার দরকার। কারণ অনেক মানুষ ডায়েট পানীয় পান করেন। তাই তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি নিশ্চিত করাটা জরুরি।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ বছরের কম বয়সীদের চেয়ে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের স্ট্রোক এবং মানসিক বৈকাল্যের ঝুঁকি বেশি। ৬০ বছরের নিচের লোকজনের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা তেমন একটা তীব্র নয়।
গবেষকদের এই প্রতিবেদনের জবাবে আমেরিকান বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে বলেছে, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ বলে আসছে লো ক্যালরি সুইটেনার সমৃদ্ধ ডায়েট কোমল পানীয়-ই বেশি নিরাপদ। দি এফডিএ, ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন, ইউরোপীয়ান ফুড সেফটি অথরিটিসহ সব নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের উদ্বৃতি দেওয়া হয়েছে ঐ বিবৃতিতে।
ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামি মিলার স্কুল অব মেডিসিনের নিউরোলোজি বিভাগের প্রধান ড. রালফ সাক্কোও একই ধরনের এক গবেষণা করেছেন। তিনি কৃত্রিমভাবে মিষ্টি করা ডায়েট পানীয় এবং ভাস্কুলার হেলথ বিষয়ক এক গবেষণার প্রতিবেদনে বলেছেন, এই ধরনের কৃত্রিমভাবে মিষ্টি করা ডায়েট পানীয় পান করার কারণে ভাস্কুলার চক্রের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় ব্রেনের ওপর প্রভাব ফেলে। মূলত নমুনা হিসেবে যেসব ব্যক্তির তথ্য উপাত্ত গ্রহণ করা হয়েছিল তাদের ওপর গবেষণা নির্ভর এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তাই এই ফলাফলকেই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেওয়ার কোন অকাট্ট কারণ নেই।-সিএনএন