তানোরে আদিবাসীদের ঘর বাড়ী উচ্ছেদের পরিকল্পনা

প্রকাশকাল- ১৯:০৪,সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোরে খাস জায়গায় বসবাস করা ঘর বাড়ী উচ্ছেদের অভিযোগ পাওয়া গেছে ।উপজেলার মুন্ডূমালা পৌর এলাকার চিনাশো কাউন্সিল মোড় বা পাচন্দর ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে ঘটেছে ঘটনাটি। ঘর বাড়ী রক্ষার জন্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর উপজেলার মুন্ডূমালা পৌর এলাকার চিনাশো কাউন্সিল মোড়ের মৃত ফুলবর রহমানের পুত্র ভুমিদস্যু একরাম আলীকে বিবাদী করে একই এলাকার মৃত বাসু মুরমুর পুত্র বাড়কু মুরমু অভিযোগটি দায়ের করেন । অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে গিয়ে দেখা যায় পাচন্দর ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে রয়েছে খাস জায়গা । ওই খাস জায়গায় ব্রিটিশ আমল থেকে বসবাস করছেন বাড়কু মুরমু ও তার ভায়েরা। বাড়কু মুরমুর বয়স প্রায় ৯০ বছরের কাছাকাছি। তারা মাটির তিনটি ঘর করে কোন রকমে বাস করছেন । তাদের বাড়ীর উত্তরে কিছু অংশ রয়েছে ফাকা । সেখানে টিন দিয়ে ঘিরে দখলে নিয়েছেন ভুমিদস্যু একরাম । বাড়কু মুরমু এপ্রতিবেদক কে দেখে হাওমাও করে কেদে উঠে বলেন বাপ দাদার আমল থেকে এখানে বসবাস করছি । কিন্তু কয়েক মাস থেকে আমাদেরকে উচ্ছেদ করতে একরাম মরিয়া হয়ে পড়েছে। টিন দিয়ে ঘেরার সময় নিষেধ করলে মেরে ফেলার হুমকি দেন । আমরা অসহায় তাদের সাথে লেগে পারব না । তিনি গায়ের জোরে ঘিরেছেন । আমাদের চলাচলের মারাত্মক সমস্য সৃষ্টি হচ্ছে । আবার কিছু বললেই মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করছেন । বাড়কূ মুরমুর ৭৫ বয়সি স্ত্রী দুলোন সরেন বলেন এ বয়সে পরিবার নিয়ে যাব কোথায় । যুগের পর যুগ ধরে বাস করে আসছি একরামের ক্ষমতায় মনে হচ্ছে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে বলে কেদে ফেলেন। ছোট্র মাটির বাড়ীতে বাস করছেন ১৮ জন সদস্য। আশ্রয় কেন্দ্রের চেয়েও ভয়াবহ অবস্থায় করছেন বসবাস ।পরিবারের অন্য সদস্য সরেস , বিশু, রবি, বাসন্তিরা বলেন আমর একাধিকবার সিমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে মারধর করা শুরু করেন একরামসহ তার লোকজনেরা। একবার বিশু মুরমুকে মেরেই ফেলতে লেগেছিল। প্রতিবেশিরা এগিয়ে না আসলে মারা পড়ত বিশু।এঘটনায় আদিবাসী সাওতাল ও একরাম বাহিনীর মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উত্তেজনা । যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে রক্তখয়ীর মত ভয়াবহ সংঘর্ষ । অভিযোগ সুত্রে জানা যায় চিনাশো মৌজার খাস খতিয়ানে আরএস ৩২ও ৩৬ নং দাগে ১২ শতাংস জমির উপর বসবাস করছেন বাড়কু মুরমু ও তার ভাই খারা মুরমু । খারা মুরমুকে মাদক খইয়ে পুরো ভিটে বাড়ী স্ট্যাম্পে লিখে নেন। ওই বলে একরাম গত একমাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের শান্তির মোড় এলাকার আয়াতুন নুরের কাছে পুরো ভিটে বাড়ী ১লক্ষ ৮৫ হাজার টাকায় স্ট্যাম্পের মাধ্যমে পজিশন বিক্রি করেন । পজিশন নিয়ে বাড়ী নির্মাণের জন্যে বুধবার সকালে নিয়ে আসেন দুই ট্র্যাক্টর ইট । আয়াতুন নুর ক্ষমতাসীন দল আ”লীগের জেলা প্রচার প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন । সেই ক্ষমতার দাপটে ফেলেছেন ইট। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পজিশন কেনার কথা স্বীকার করে বলেন ওইখানে একরামের বাড়ী ছিল এজন্য কেনা হয়।তবে নামজারি করতে গিয়ে দেখি জায়গাটি খাস । অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান এটা আমার অজানা । যদি আদিবাসীদের সমস্য হয় তাহলে বাড়ী নির্মাণ বন্ধ করে দেয়া হবে। খাস জমিতে বাড়ী কিভাবে নির্মাণ করবেন এমন প্রশ্ন করা হলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন পরে কথা হবে। ভমিদস্যু একরাম পাচন্দর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দক্ষিনে খাস জায়গায় গড়ে তুলেছেন আলিশান ভবন । ইউএনও মুহাঃ শওকাত আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন কবে অভিযোগ হয়েছে , বলা হয় ১০ সেপ্টেম্বর রোববারে। সাথে সাথে তিনি বলেন খাস জায়গা এভাবে বিক্রিও হয়না। বাড়ী নির্মাণের প্রশ্নই উঠে না । ঘটনাস্থল তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি ।