তানোরে গো খাদ্যের চরম সংকট

প্রকাশকাল- ২০:৩৩,অক্টোবর ১৭, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি :

রাজশাহীর তানোরে গো খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি গো খাদ্যের জন্য গরুর মালিকদের মধ্যে পড়েছে হাহাকার । গরু মহিষের প্রধানতম খাদ্য খড় । বর্তমানে সেই খড়ের দাম আকাশ ছোয়া । আটি প্রতি ৫টাকা খুচরা মুল্য দাড়িয়েছে। এতে করে ছোট বড় গরু পালন কারীরা পড়েছেন চরম সমস্যায়। জানা গেছে গত বোরো মৌসুমে টানা বৃষ্টি হবার কারনে খড় আনতে পারেননি চাষিরা । উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হঠাত বিলের পানি বেড়ে যাবার কারনে ধানের শীষ কোন রকমে তড়িঘড়ি কাটতে পেরেছিল চাষিরা ।মুলত একারনেই খড়ের তিব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোন জায়গায় গরুকে ঘাস খাওয়ানোর মত অবস্থা নেই । মাঠে রয়েছে আমন ধান । যার ফলে গরু মহিষের আরেক প্রধানতম খাবার ঘাস সে টাও পারছেননা খাওয়াতে। মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন উপজেলার চান্দুড়িয়া ইউপি হাড়দহ বিল এলাকার ও কামারগা ইউপির হাতিশাইল সহ বিল এলাকার শতশত গরু পালন কারী নারীরা । হাড়দহ বিলের রাস্তা থেকে শুরু করে পৌরসভার গুবির পাড়া হয়ে হাতিশাইল দিয়ে শ্রীখন্ডা বাতাসপুর মাদারিপুর , এছাড়াও কলমা ইউপির রাস্তা সহ উপজেলার গ্রামীন রাস্তাগুলো গরুর ঘাস খাওয়ার অন্যতম মুল ভরসা হয়ে পড়েছে । রাস্তায় ঘাস থাক না থাক গরু মহিষের সাথে থাকে ছাগল ভেড়া । রাস্তার ঘাস খাওয়াতে গিয়ে মারা পড়ছে প্রতিনিয়তই এসব পশু । ব্যাপক ঝুকি নিয়ে জীবন জীবিকার সন্ধানে দুর্ঘটনাকে মাথায় নিয়ে খড়ের দাম প্রচুর বেড়ে যাওয়ার কারনে এমন অবস্থায় দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে গরু পালন কারীরা জানান । একাধিক গরু পালনকারী চাষিদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায় গত বোরো মৌসুমের পর আলু উত্তোলন করা প্রায় ১০/১২ হাজার হেক্টর জমিতে রোপন করা হয়েছিল ধান । সেই ধান শ্রমিক সংকটে বাধ্য হয়ে হপার নামক ধান মাড়াই মেশিনে মাড়াই করার কারনে বস্তায় করে বাড়িতে শুধু এসেছে ধান। তিল পরিমান খড় আনতে পারেন নি চাষিরা । খড় সংকটের আরেকটি অন্যতম কারন । জব্বার নামের এক কৃষক জানান প্রতিটি সময় বাড়ীতে গরু থাকে । খড়ের তেমন সংকট অতীতে হয় নি। কিন্তু এবার কিনে খড় খাওয়াব সেটাও মিলছে না । কোন জায়গায় খড় পাওয়া যাচ্ছেনা । বাড়ীতে ৬ টি গরু আছে । প্রতিদিন দেড় পুন করে খড় লাগে । দাম যায় হোক চাহিদা মত পাওয়ায় মুসকিল। এসব এলাকায় কাউন পুন নামে খড় বিক্রি হয়। ২০ গুণ্ডা ৮০ আটিতে এক পুন । একটি গরু ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ আটি খড় খায় । খাবার সংকটের কারনে অনেকে গরু অল্প দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন । শুধু মাত্র খড় না থাকার কারনে লোকশানে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে একাধিক গরু পালন কারীরা জানান। আরো সমস্যায় পড়েছেন আদিবাসী সাওতাল সম্প্রদয়ের জনগোষ্ঠী । তাদের প্রায় বাড়ীতে থাকে দু একটি করে গরু। মাঠের মধ্যে পুকুর পাড়ে বসবাস তাদের । জসেফ নামের এক আদিবাসী সম্প্রদয়ের কৃষি শ্রমিক জানান কোন উপায় নেই গরু বিক্রি করতে হচ্ছে । কারন গরুর খাবার কিনব না চাল কিনে খাবো কোন উপায় নেই । কারন এসময় কোন ধরনের কাজ থাকেনা । গরীব শ্রমিকদের চারদিক থেকে মোড়ক জমেছে । উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মজিদ গো খাদ্যের সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন উপজেলায় গরুর সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারের মত ,মহিষ প্রায় ৫ হাজার , ছাগলের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার ।তিনি আরো জানান আমার বাসা সিরাজগঞ্জ এলাকায় , ওই সব এলাকায় চরম গো খাদ্যের সংকট সে তুলনায় এ উপজেলায় ওই সব এলাকার চেয়ে অনেক ভাল অবস্থায়। তবে আমন ধান উঠা শুরু হলে এ সংকট থাকবে না । তিনি গরু মহিষের যে তথ্য দিয়েছেন তার কয়েকগুন বেশি পরিমাণ রয়েছে বলে একাধিক কৃষক জানান ।এনিয়ে কলমা ইউপির চেয়ারম্যান লুতফর হায়দার রশিদ ময়না জানান এলাকায় খড়ের সংকট থাকত না । কলমা ইউপি থেকে বাহিরে ব্যাপক হারে খড় যায় । যার ফলে খড়ের প্রচুর দাম । তবে কয়েক দিনের মধ্যেই এসংকট দুর হবে কারন আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে কিছুকিছু জায়গায়।কামারগা ইউপির চেয়ারম্যান মুসলেম উদ্দিন প্রামানিক জানান খড়ের প্রচুর দাম , ৪ হাজার টাকা কাওন । যে সব শ্রমিকদের গরু আছে তা কষ্টে দিন যাপন করছে। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান খড়ের তীব্র সংকটের কারনে বিলে থাকা দল কেটে খাওয়াচ্ছেন । চালের বাজার চউড়া গরীব অসহায় ব্যক্তিরা চাল কিনবে না খড় কিনবে এমন দূর অবস্থায় দিন পার করছেন।