তানোরে নার্সারি করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে শতাধিক নারী পুরুষ

প্রকাশকাল- ২১:৩২,এপ্রিল ২১, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

রাজশাহী থেকে নাজিম হাসান
রাজশাহীর তানোর উপজেলার ধানুরা গ্রামে নার্সারির চারা উৎপাদন করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে কয়েকশ পরিবার। এলাকাসহ তারা দেশের বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গ্রামের যুবকরা লেখাপড়া শেষে চাকুরির জন্য দ্বারে দ্বারে না ঘুরে দিয়ে নিরাশ হয়ে তারা নার্সারি বাগান করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। সরজমিনে উপজেলার ধানুরা গ্রামে গিয়ে বিভিন্ন নার্সারি বাগানের মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২০-৩০ বছর পূর্বে হতে অল্প পরিসরে এ গ্রামের দুই-একজন ব্যক্তি এ ব্যবসা শুরু করলেও ধীরে ধীরে এ ব্যবসায় ভালো লাভ হওয়ায় অনেকে ঝুঁকে পড়ে নার্সারি বাগান করতে। বর্তমানে এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। নার্সারি বাগানের মালিক জলিল সরকার বলেন, ডিগ্রি পাশ করে চাকরির আশায় বিভিন্ন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিরাশ হয়ে ফিরেছি। তখন নিজের উপর নিজের বড়ই বিরক্তবোধ করতাম। পরে আমার বাড়ির পার্শ্বে লিচু গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিই। এবং চারা সংগ্রহের জন্য দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী এলাকায় গিয়ে লিচুর চারা আমদানি করি। সেখানে গিয়ে নার্সারি দেখে আমার প্রচ- ইচ্ছে হয় আমিও নিজ এলাকায় এ ধরনের নার্সারি বাগান গড়ে তুলবো। বাড়ি ফিরে অল্প পরিসরে নার্সারি বাগানের কাজ শুরু করি। এ বিষয়ে আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন দিনাজপুরের নার্সারি মালিক স্বপন। পরে দিনে দিনে বাগানের পরিধি বাড়াতে থাকি এবং আশানুরুপ লাভ হয়। বর্তমানে আমার আট বিঘিা জমিতে নার্সারি বাগান আছে এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক লক্ষাধিক চারা আছে। আমাদের বাগানের চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে থাকি। জলিল আরো বলেন, এ গ্রামে প্রথমে খাইরুল ভাই নার্সারির বাগান করেন। তখন আমি আইএ পড়তাম। পড়াশোনা শেষে একটি এমপিওভুক্ত স্কুলে চাকরির আশায় ২ লাখ টাকা দিয়ে ১০ বৎসর খেটে বিল বেতন না পেয়ে বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে জীবন যাপন করতে থাকি। সে সময় খাইরুল ইসলাম আমাকে নার্সারি বাগান করার জন্য উৎসাহ যোগান। খাইরুল ইসলাম ভাইয়ের পরামর্শে অন্যের এক বিঘা জমি বাৎসরিক লীজের মাধ্যমে নার্সারির বাগান আরম্ভ করি। বর্তমানে আমার ৭-৮ বিঘা জমিতে বাগান আছে। প্রতি মাসে গড় আমার ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় হয় এবং বর্ষা মৌসুমে এর চেয়ে আরো বেশি আয় হয়। তানোরে আবদুল জলিল ধানুরার জলিল সরকার ও হাসানের বিপ্লব দেখে ওই গ্রামের পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও বসে নাই। নার্সারি করে নিজেকে সমাজের অবহেলার হাত থেকে রক্ষা করে আজ তারা সুপ্রতিষ্ঠিত। স্বামী পরিত্যক্ত এক সন্তানের জননী শান্তা আরা বলেন, তার বিয়ের ৩ বৎসরের মাথায় তার স্বামীর যৌতুকের দাবি পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেন। পরে বাবার বাড়িতে এসে মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতাম। পরে আমাদের গ্রামের লোকজনের সাহায্যে আমি প্রথমে বাড়ির পাশে বাগান করে বড়ই, আম ও কাঠালের বীজ মু-মালা থেকে খুড়িয়ে এনে রোপণ করে চারা তৈরি করে। এক বৎসর চারার বয়স হলে গ্রামের বড় নার্সারি ব্যবসায়ী জলিলের কাছে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। সে থেকে আমাকে আর পিছনে ফিরতে হয় নি। এখন আমি নিজের নামে দেড় বিঘা জমি ক্রয় করেছি। যার মূল্য বর্তমান বাজারে ৫ লাখ টাকা। এ বিষয়ে তানোর উপজেলার কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, অনেক মানুষ টাকা আয় করার জন্য শহরমুখী হয়। কিন্তু তারা যদি গ্রামে বসে সামান্য পরিশ্রম করে। তাহলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে অনায়াসে। তার জলন্ত প্রমাণ রেখেছে উপজেলার ধানুরা গ্রামের কিশোর, যুবক, বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের নারী পুরুষ।#