তানোরে ফের দালাল আতঙ্কে ভূমি অফিস

প্রকাশকাল- ২০:৫৮,অক্টোবর ১৯, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোরে উপজেলা ভুমি অফিস থেকে শুরু করে ইউনিয়ন তহসিল অফিসগুলোতে ফের দালাল আখড়াই পরিনত হয়ে পড়েছে । পুরাতনদের সাথে যোগ হয়েছে নব্য দালাল সিন্ডিকেট । এতে করে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভুমি কর্মকর্তারা বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে । জানা গেছে উপজেলার ভূমি অফিসসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে আরো তিনটি তহসিল অফিস । সবগুলো অফিসে সিন্ডিকেট দালাল চক্র ছাড়া কোনোই কাজ হয়না । এ দালাল সিন্ডিকেট চক্র অনেকটাই বাতিল করেছিলেন সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার ভুমি নিলুফা ইয়াসমিন । কিন্তু গত এপ্রিলের একটি এলটি কেসের জালিয়াতিতে বদলি হতে হয় তাকে। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় ট্রেনিঙয়ের কথা বলা হলেও চলতি মাসেই তিনি বিদায় নিয়ে তার স্থলে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন । নিলুফা ইয়াসমিন যোগদানের পর ভূমি অফিসে সেবারমান পাল্টে যায় । ডিজিটাল করার লক্ষে তিনি উপজেলা ভূমি অফিস কে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনেন। কমে যায় দালাল চক্র। কিন্তু উপজেলার কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অফিস সহকারী এলাকার চিহ্নিত ভূমি দালাল তরিকুল ফাঁদ পাতে এলটি কেস দিয়ে। কোন ধরনের জমি না থাকলেও ক্রেতা বিক্রেতা সাজিয়ে এলটি কেসের আবেদন করা হয়। আর এসব কাগজ তৈরি করে দেন তরিকুল । এলটি কেস পাশ হবার পরে জমি রেজিষ্ট্রির দিন তরিকুলের চাহিদা পুরুন না হবার কারনে ফাঁস করে দেন তিনি। এফাঁদে পড়ে সহকারী কমিশনার ভূমি । এ কারনেই তানোর বাসী হারায় চৌখোশ এক কর্মকর্তাকে ।তার পর থেকে থমকে পড়ে সকল সেবামুলুক কার্যক্রম । তার রেখে দেয়া অনেক সৃত্মি বহন করছে ভুমি অফিস ।তিনি গ্রাহক হয়রানি বন্ধে সিমানা প্রাচীরে লিখে দিয়েছেন কোন কাজে কত টাকা লাগবে কি ভাবে সেবা পাওয়া যাবে । এমন কি কোন হয়রানি করলে অভিযোগ বাক্স রাখা হয় । কিন্তু বেশ কিছু দিন থেকে সেই তরিকুলের সাঙ্গপাঙ্গদের ভূমি অফিসে ব্যাপক ভাবে দেখা মেলায় একপ্রকার আতঙ্কে ভোগছেন ভূমি কর্মকর্তা কর্মচারীরা । কলেজের কাজ ফেলে দিয়ে জমির কাজে পড়ে থাকতে বেশি সময় পার করে থাকেন মুণ্ডুমালা তহসিল অফিসে । তার এমন বসে থাকায় চরম বিব্রতকর অবস্থায় কর্মকর্তারা থাকলেও পিয়ন কর্মচারী পদের কিছু ব্যক্তিসহ অনেকে তার মাধ্যমে তদবির পেয়ে পকেট ভারী করছেন বলেও একাধিক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন । তার এলটি কেসের খপ্পড়ে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন মুণ্ডুমালা বাজারে কাপোড় ব্যবসায়ী আইড়া এলাকার রফিকুল বাধাইড় নন এমপিও ভুক্ত নিম্ম মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক মুণ্ডুমালা কলেজ এলাকার রফিকুল ইসলাম । মুণ্ডুমালার একাধিক প্রবীন ব্যক্তিরা জানান বাধাইড় মুন্ডূমালা পাচন্দর এই সব এলাকায় জমির যত সমস্যার মুলেই তরিকুল । তার জালিয়াতে কর্মকাণ্ডে এলাকার অনেকে হয়েছেন নিঃস্ব । একাধিকবার এলাকায় তার নামে বসে সালিশ বিচারও । এখন অভিনব কায়দায় চলছে দালাল সিন্ডিকেটের কাজ । তাঁরা কৌশল পাল্টিয়ে অফিস কর্মচারীদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা । শুধু তরিকুলই না কলমা বিল্লি এলাকায় আলিম ভুমি দালালি করে গড়েছেন আলিশান বাড়ী। কামারগা ইউপির হাতিশাইল এলাকার মুহুরী আলিম , সরনজাই এলাকার মুহুরী আলামিন,রাজ্জাকসহ রয়েছে পৌর সদরের নাম করা পুরাতন নব্য দালাল । যাদের মাধ্যম ছাড়া ভুমির তেমন কাজ হয়না বলে একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ । এনিয়ে সদ্য যোগদান কারী সহকারী কমিশনার ভূমি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন সবে এখানে কার্যক্রম শুরু করেছি । কোন ধরনের দালাল সিন্ডিকেট রাখা হবেনা । যার কাজ তাকেই আসতে হবে। সেবার মান বৃদ্ধি করা হবে । শুধু তাই না অতিদ্রুত ভূমি অফিসে সেবা দেয়া হবে ডিজিটাল ভাবে । কোন ধরনের হয়রানি থাকবেনা বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি ।