দুর্গাপুরে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ৩শত হেক্টর রোপা আমন ফসল নিমজ্জিত

প্রকাশকাল- ১৮:৫৮,আগস্ট ১৩, ২০১৭,ময়মনসিং বিভাগ বিভাগে

Durgapur - 13 (4)নির্মলেন্দু সরকার বাবুল, দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গত ৪দিন অবিরাম বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পৌরসভাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

সোমেশ্বরী, আত্রাই ও কংশ নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমেশ্বরী নদী ভাঙ্গনে কামারখালী বাজার ও রানীখং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়, বিজয়পুর ক্যাম্পের উত্তর পাশের সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা এবং কুমুদগঞ্জ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙে সোমেশ্বরী নদীর পানি সবকটি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি ও বিভিন্ন পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ায় এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোতালেব সরকার প্রতিনিধিকে জানান, তার ইউনিয়নে ১০টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এখনো পানি বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, এবারের বন্যায় ৩শত হেক্টর রোপা আমন ফসল সহ শাকশব্জি সম্পুর্ন নিমজ্জিত হয়েগেছে। অপরদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে পাশ্ববর্তি পুর্বধলা উপজেলার নি¤œাঞ্চল গুলি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং এছাড়া পুর্বধলা ও জারিয়া ঝাঞ্জাইল রেল লাইনে পানি সমান সমান থাকায় রেল চলাচল ঝুকিপুর্ন অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মন্তোষ দেবনাথ বলেন, শনিবার ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমানে বন্যার পানি স্কুলে প্রবেশ করার কারনে ৮৩টি স্কুল বন্ধ রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারিছা বেগম জানান, উপজেলায় ৩৮টি মাধ্যমিক স্কুলের মধ্যে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ১২টি স্কুল বন্ধ রয়েছে।

দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমদাদুল হক খান জানান, এলাকায় প্রচন্ড জলাবদ্ধতার কারণে গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমুদগঞ্জ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ৯৫টি বিদ্যালয় জলবদ্ধতা রয়েছে। তাছাড়া কামারখালী বাজার, কুল্লাগড়া, ইসলামপুর, ডাকুমারা, শিবগঞ্জ বাজার নতুর করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সোমেশ্বরী নদীর ব্যস্ততম তেরী বাজার ফেরিঘাট, সাধুপাড়া সহ শশ্মানখলা পর্যন্ত পৌর শহর রক্ষা বাঁধের অনেক গুলো ব্লক নদী গর্ভে চলে গিয়ে পৌরশহর রয়েছে হুমকীর মুখে। শিবগঞ্জ বাজার থেকে গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের প্রধান সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। উপজেলার ৭০টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দি রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন রবিবার গাঁওকান্দিয়া ও কুল্লাগড়া ইউনিয়নে বানভাসীদের মধ্যে চাউল বিতরন করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।