দুর্ণীতি ছড়িয়ে পড়েছে আলীকদমের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল মেরামত ও স্লিপের টাকা লুটপাট

প্রকাশকাল- ০১:২৫,অক্টোবর ১৩, ২০১৭,খুলনা বিভাগ বিভাগে

হাসান মাহমুদ, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্ণীতির ক্ষেত্রে গড়িয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত। নিধিরাম সর্দারের ভূমিকায় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ পাওয়া গেছে ক্ষুদ্র মেরামত, প্রাক-প্রাথমিক ও স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যানের (স্লিপ) টাকা লুটপাটের। ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ক্ষুদ্র মেরামত ৯ হাজার, প্রাক-প্রাথমিক ৫ হাজার ও ক্রীড়া পুরস্কারখাতে ২ হাজার ও স্লিপখাতে ৪০ হাজার হারে বিদ্যালয়ভিত্তিক বরাদ্দ পাওয়া এসব টাকা ও কাজ কোনটারই হদিস নেই। বরাদ্দ আত্মসাতের বিষয়ে স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (এসএমসি)’র একজন সভাপতি একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করলেও খামখেয়ালীপনায় রয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
উপজেলার অসতি ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি মো. ওসমান গনি অভিযোগ করেন, তার বিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তার বিদ্যালয়ে স্লিপ, প্রাক-প্রাথমিক, ক্ষুদ্র মেরামত ও ক্রীড়াখাতে ৫২ হাজার এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কোন কাজ না করে সমুদয় অর্থ আত্মসাত করেছেন প্রধান শিক্ষক কল্লোল দত্ত রাসেল। তিনি আরও জানান, আমি ইতোপূর্বে বিষয়টি সাবেক ও বর্তমান শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শিক্ষা অফিসের আসকারা পেয়ে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাত করার সুযোগ পেয়েছেন।
অপরদিকে, থোয়াইচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি লাংরাও মুরুং বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তার বিদ্যালয়ে স্লিপ, প্রাক-প্রাথমিক, ক্ষুদ্র মেরামত ও ক্রীড়াখাতে ৫২ হাজার এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কোনো কাজ না করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উথোয়াইচা মার্মা আত্মসাৎ করেছেন। একই অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা ইয়োংলক মুরুং। তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছি।
চৈক্ষ্যং ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে দুইজন প্রধান শিক্ষক পরিবর্তন হয়ে গেলেও কেনা হয়নি সংশ্লিষ্টখাতের কোন মালামাল। অফিসে জমা আছে শুধুমাত্র কিছু ভূয়া ভাউচার। গত দুই অর্থবছরের লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দের অর্থ হরিলুট করেন প্রধান শিক্ষকরা। এ ব্যাপারে সাবেক দুই প্রধান শিক্ষক এনামুল করিম ও হুমায়রা বেগমের সাথে কথা বললে পরস্পর বিরোধি তথ্য পাওয়া যায়। প্রধান শিক্ষক হুমায়রা বেগম বলেন, আমি সেখানে যোগদানকালে কোনধরণের স্লিপের মালামাল বুঝিয়ে দেননি পূর্বের প্রধান শিক্ষক এনামুল করিম। স্লিপের মালামালও পাওয়া যায়নি। ভাউচারের একটি ফাইল দিতে চেয়েছিলেন, আমি নিইনি। ওই বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এনামুল করিম বলেন, এ সংক্রান্ত যাবতীয় মালামাল ও ভাউচার আমি হুমায়রা বেগমকে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। এর দায় তার।
বরাদ্দ পেয়েও কাজ না করার অভিযোগ রয়েছে মেজর জামান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পায়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেংপুং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, তার বিদ্যালয়ে সব মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। সেখানে ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত ক্লাস্টারে অনেক শিক্ষকরাও তা দেখেছেন। মেজর জামান পাড়া বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি উচাচিং মার্মা কার্বারি বলেন, কিছু মালামাল কেনা হয়েছে বলে জানি। তবে কত টাকা বরাদ্দ ছিল তা জানি না।
বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, অগ্রাধিকারভিত্তিক ছোট ছোট সংস্কার কাজ এবং গরিব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তাসহ বিভিন্ন কাজে এসব টাকা ব্যয় করার কথা। কিন্তু উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে বাস্তবে কানো কাজের চিহ্ন চোখে পড়ে না। বরাদ্দের সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ও হিসাব রক্ষণ অফিসকে নির্দিষ্ট হারে দিতে হয় উৎকোচ। আবার ভূয়া ভাউচারগুলি শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে ‘অনুমোদন’ নিতে টাকা গুণতে হয় প্রধান শিক্ষকদের।
দিতে হয় প্রধান শিক্ষকদের। অনেকক্ষেত্রে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ম্যানেজ করে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকেরা ভুয়া ভাউচার তৈরি করে খরচের হিসাব সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষুদ্র মেরামতের কাজের সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং স্লিপের জন্য উপজেলার আলাদা কমিটি থাকলেও তদারকি হচ্ছে না। ফলে সরকারের এসব বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট অনেকের পকেটে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে আলীকদম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইস্কান্দার নুরী বলেন, এসব টাকা আগেই ডেসপাস হয়েছে। মাসিক সমন্বয় মিটিং-এ আলোচনা হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ আছে। সেখানে তদন্ত হবে।