নানা অনিয়মে ডুবতে বসেছে শাহজাদপুর টেলিফোন এক্্রচেঞ্জ

প্রকাশকাল- ২০:৩৭,ডিসেম্বর ১১, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

shahzadpur photo 09.12.17শাহজাদপুর প্রতিনিধি : শাহজাদপুর টেলিফোন এক্্রচেঞ্জটি নানা অনিয়ম লোকবল সংকট আর অব্যবস্থাপনার কারনে গ্রাহক হারাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান চুপচাপ বসে থাকায স্থানীয় রোকজন এটিকে গোবরের ঘুটে শুকানোর স্থানে পরিনত করেছে । এলাকা জুড়ে অস্বাস্থ্য কর পরিবেশ । ভবনের পাশে ঝোপঝাড় হওয়ায নানা প্রকার জন্তু জানোযারের এটি এখন আবাসস্থলে পরিনত হয়েছে । আর এ একারণে এক্্রচেঞ্জটিতে ঢুকতে ও বের হতে নাকে কাপড় দিতে হয় । শুধু তাই নয় অব্যবস্থাপনার কারনে আড়াই হাজার ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন এক্্রচেঞ্জটিতে এখন গ্রাহক রযেছে মাত্র আড়াইশো । দিনের পর দিন টেলিফোন বিকল থাকা ও নানা অব্যস্থাপনার কারনে এ লাভ জনক প্রতিষ্ঠানটি এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে । টেলিফোন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসিনতা এ অবস্থার কারণ বলে স্থানীয়দের অভিযোগ । সরজমিনে গিয়ে জানা যায় যারা এখানে আসেন তারা অনেকটাই নিরুপায় হয়ে আসেন । নোংরা পরিবেশ আর এলাকার প্রভাবশালীদের গোচারণভূমিতে পরিণত হওয়ায় উপজেলার গুরুত্বপুর্ণ ও লাভজনক এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান জনবল সংকটে রয়েছে। একারনে অনেক টেলিফোন গ্রাহক তার টেলিফোন বিটিএলসি’র কাছে হস্তান্তর করছেন । এ অবস্থায় শাহজাদপুর পৌর সদরের দ্বারিয়াপুর বাজারের ব্যবসায়ী সাব্বির খান জানান বেশীর ভাগ সময় ফোনের লাইন খারাপ থাকলেও ভূতরে বিলের কারণে তিনি টেলিফোন ছেড়ে দিয়েছেন । এছাড়া শাহজাদপুরের বিশিষ্ট আইন ব্যবসায়ী আনোযার হোসেন জানান আমার ল্যান্ডফোন সব সময় অচল থাকে । মায়ার টানে ফোনটি রেখেছি পৌর সদর চরুয়াপাড়ার আতাউর রহমান পিন্টু জানান , আমার একটি ৬৪২৪২ নন্বরের টেলিফোন সংযোগ রয়েছে । মাসের বেশীর ভাগ সময় ফোন লাইন নষ্ট থাকে । গত পাঁচ মাস যাবত আমার ফোনটি নষ্ট হয়ে আছে । অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছেনা । ভাবছি টেলিফোন ছেড়ে দেব । মনিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী গোলাম ফারুক জানান ভূতরে বিল আর টেলিপোন বিভাগের লোকদের আচরন পরিবর্তন না হওয়ায় আমার টেলিফোন সংযোগটিও বিচ্ছিন্ন করেছি। কান্দাপাড়ার চঞ্চল জানান বিল পরিশোধ করার পর সেই বিল চেয়ে টেলিফোন বিভাগ আমার বিরূদ্ধে মামলা করে দেয় । খবর নিয়ে জানা গেছে , ২০০৬ সালে শাহজাদপুর এনালগ পদ্ধতির টেলিফোন এক্রচেঞ্জটি ২ হাজার লাইনের ডিজিটালে এক্রচেঞ্জ রুপান্তরিত হওয়ার পর এটি প্রাথমিক ভাবে ৫ শ’ টেলিফোন সংযোগ দিয়ে চালু করা হয় । চালুর পর নতুন সংযোগ বৃদ্ধি পেলেও অব্যবস্থার আর দুর্নীতির কারনে গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে । গত তিন বছরে টেলিফোন বিভাগের সেবার মান নিয়ে গ্রাহদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করায় টেলিফোন ছেড়ে দেওয়ার হিড়িক পরে যায় । স্থানীয় টেলিফোন বিভাগ সুত্রে জানা যায় সংযোগ দেওয়ার জন্য শাহজাদপুর শহর ও বাঘাবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় ৯০টি ডিপি স্থাপন করা হয় । প্রতিটি ডিপি থেকে নিচে ১৫টি উপরে ৩০টির অধিক সংযোগ দেওয়া সম্ভব । ৯০টি ডিপির মধ্যে প্রায় ১৫টি ডিপি এখন অকোজে হয়ে পরেছে । নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় টেলিফোন বিভাগের একটি সুত্র জানায় বর্তমানে এ টেলিফোন এক্্রচেঞ্জের উপ সহকারি প্রকৌশলীর দায়িত্বে¡ নিয়যিত মোঃ মনিরুল হক চৌধুরীর দায়িত্ব অবহেলার কারণে এপ্রতিষ্ঠানটি থেকে অনেক গ্রাহক তাদের ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছে । তবে মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন মাটির নিজ দিয়ে কেবল লাইন যাওয়ার কারণে রাস্তা খোঁড়া খুঁিড়তে মাঝে মধ্যে কিছু টেলিফোন বিকল হলেও তা যথা সময় মেরামত করে ফোন লাইন স্বচল করে দেওয়া হচ্ছে । স্থানীয় লোকদের কারনেই এক্্রচেঞ্জের চারি পাশের পরিবেশ সুন্দর রাখা মোটেও সম্ভব হচ্ছেনা । তিনি আরো বলেন অপরেটর ও লাইন ম্যান সহ বিভিন্ন পদ শূণ্য ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দিন মজুরের ভিত্তিতে লোক নিয়ে আমাকে গুরুত্মপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখতে হচ্ছে । ভুতরে বিল নিয়ে তিনি বলেন বিল আমার অফিস থেকে হয়না , তাই বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু বলতে পারবোনা।