পতœীতলায় খেঁজুর রস সংগ্রহে গাছিরা ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন

প্রকাশকাল- ১৯:৪৫,ডিসেম্বর ৯, ২০১৭,ফিচার বিভাগে

সিয়াম সাহারিয়াঃ

Seam saharia- pictures Patnitala.09.12.17 (2)

সকালের মৃদু কুয়াশায় শীতের বার্তা দিচ্ছে প্রকৃতি। কুয়াসা কেটে গেলে ভোর থেকে শিশির বিন্দুতে ভরে থাকে ঘাসের মাঠ আর সকালের মিষ্টি রোদ পোহাতে মাতে প্রকৃতি। এখন নতুন ধানের পিঠা পুলি আর পায়েশ বানাবে কৃষাণী এরই মধ্যে খেঁজুরের রস আহরণের জন্য পতœীতলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গাছিরা রস সংগ্রহে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন। হাতে দা নিয়ে কোমোরে দড়ি বেধে খেঁজুর গাছে উঠে নিপুন কৌশলে চলছে গাছ থেকে খেঁজুর রস নামানোর প্রক্রিয়া। গাছ ছেলা ও নলি বসানোর কাজে এখন ব্যাস্ত তারা। উপজেলায় খেঁজুর গাছ বাগানের সংখ্যা কম হলেও প্রায় প্রতিটি বাড়ির জমির আইল,পুকুরের পাড় ও রাস্তার ধারে রয়েছে খেজুর গাছ। এই সব গাছের খেঁজুর খাবার চেয়ে রস সংগ্রহ বেশি করা হয়। পলি মাটিতে জন্মনো গাছে রস বেশি হয়। রস আহরণের সময় থাকে কয়েক মাস পতœীতলা উপজেলার কাটাবাড়ি গ্রামের সেবক কুমার গাছি জানায়, শীত শুরু হতেই গাছিরা এখন ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন। শীতের সকালে রস খেতে সবাই পছন্দ করেন।এই সময় টাতে প্রতি গ্লাস ৫ থেকে ১০ টাকা দামে বিক্রি করে দিনে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়।
এছাড়াও শীতের পিঠা ও পায়েসের জন্য রস প্রস্তুত করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন গাছির সাথে কথা বলে যানা যায়,আবহাওয়া যত ঠান্ডা হবে আকাশ যত মেঘলা কুয়াশাময় হবে রসের স্বাদ ততই বেশি পাওয়া যাবে। কাচা খেঁজুরের রস যত সুস্বাধু কিন্তু ততটাই প্রাণঘাতী হতে পারে। গত কয়েক বছর ধরে খেজুরের কাচা রসে দেশ জুড়ে মরণঘাতী অসুখ নিপাহ ভাইরাসের প্রভাব দেখা গিয়েছে। এক্ষেত্রে গাছিদের বিভিন্ন ভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বিপদ এড়াতে ঠিলা(কলস) টাঙ্গানোর পর বাঁসের বেড়া অথবা নেট জাল দিয়ে ঢেকে রাখলে বাদুড় কাচা রসে মুখ দিতে পারেনা,এতে রস থাকেবে নিরাপদ। এলাকার সচেতন মহলের কিছু ব্যাক্তি জানান, খেঁজুরের কাঁচা রস খাওয়া খুব একটা নিরাপদ নয়। অবশ্যই রস জালিয়ে খেতে হবে। নিরাপদ কাচা খেঁজুরের রস ও মুড়ি মিষ্টি রোদে বসে খেতে ভারি মজা। খেঁজুরের রসের গুড়ে হবে মজার মজার পিঠা। খেঁজুর গুড় থেকে তৈরি হবে পাটালি,আর পাটালি থেকে তৈরি হবে নানান রসের পিঠা। ভাপাপিঠার মিষ্টি গন্ধে মাতবে উঠান।