পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগাষ্ঠীর প্রথম ম্যাজিষ্ট্রেট জ্যোতিন্দ্র প্রসাদ তঞ্চঙ্গ্যা আর নেই

প্রকাশকাল- ১০:০৬,জানুয়ারি ১০, ২০১৮,চট্টগ্রাম বিভাগ বিভাগে

Jyotindraরাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি :: পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আদিবাসী জনগাষ্ঠীর প্রথম বি.কম. এল.এল.বি পাশ করা ম্যাজিষ্ট্রেট জ্যোতিন্দ্র প্রসাদ তঞ্চঙ্গ্যা আর নেই। গতকাল ৮ জানুয়ারী সোমবার বিকাল ৩ টায় রাঙামাটি শহরের পূর্ব ট্রাইবেল আদামের নিজ বাস ভবনে বার্ধক্য জনিত কারণে তিনি পরলোক গমন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে দুই মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। প্রয়াতের স্ত্রী নিরুপমা তঞ্চঙ্গ্যা ২০১৬ সালে পরলোক গমন করায় তার ছেলে অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী প্রকৌশলী অনুপম তঞ্চঙ্গ্যা বেশ কিছুদিন আগে তার পিতাকে দেখাশোনা করার জন্য বাড়ীতে চলে আসেন, অনুপমের বড়বোন জ্যোৎ¯œা তঞ্চঙ্গ্যা স্বপরিবারে দুবাই ও ছোট বোন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার জয়া তঞ্চঙ্গ্যা অষ্ট্রেলিয়াতে বসবাস করেন।
জ্যোতিন্দ্র প্রসাদ তঞ্চঙ্গ্যার মরদেহ বাসভবনের আঙ্গিনায় শুভাকাংখিদের শ্রদ্ধা জানানো জন্য ফ্রিজভ্যানে রাখা হয়েছে। তার মেয়ে এবং অন্যান্য আত্মীয় স্বজন দেশের বাইরে থেকে পৌঁছলে আগামী ১১ জানুয়ারী বিকালে ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে রাঙাপানি পবিত্র শ্মশান ভুমিতে তার দাহকার্য সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে প্রকৌশলী অনুপম তঞ্চঙ্গ্যা।
কবি কার্তিক চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যার বড় ছেলে জ্যোতিন্দ্র প্রসাদ তঞ্চঙ্গ্যা ১৯৪০ সালে ১২২ নং কুতুবদিয়া মৌজা রাঙামাটি সদর মহকুমায় জন্ম গ্রহণ করেন। তারা দুইমায়ের ৭ বোন এবং ৫ ভাই মোট ১২ ভাইবোন ছিলেন। রাঙামাটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে মেট্রিকুলেশন পাশ করার পর চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কানুনগো পাড়া কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম. এল.এল.বি ডিগ্রি লাভকারী তৎকালীন পার্বত্য অঞ্চলের প্রথম ব্যাক্তি তিনি। তারপরে বি.কম. এল.এল.বি ডিগ্রি অর্জন করেন প্রয়াত সংসদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা মঞ্জু।
জ্যোতিন্দ্র প্রসাদ তঞ্চঙ্গ্যা ১৯৬৯ সালে ইষ্ট পাকিস্তান সার্ভিস কমিশনের (ইপিসিএস- বর্তমানে বিসিএস) অধীনে চট্টগ্রামের ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট হিসাবে কর্মজীবণ শুরু করেন। তিনি ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম সুনামগঞ্জ,পাবনা ও সিরাজগঞ্জে ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দিনাজপুর সদরে সাব ডিভিশনাল কর্মকর্তা, ৪ জানুয়ারি ১৯৮২ থেকে ২১ অক্টোবর ১৯৮২ রাজশাহীতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ১ নভেম্বর ১৯৮২ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত সারিয়াকান্দি বগুড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে, ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক, ১৯৮৯-৯০ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে মন্ত্রীর একান্ত সচিব, ১৯৯১ সালে মৌলভিবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি), ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভুমি মন্ত্রণালয়ের ভুমি জরিপ অধিদপ্তরের উপ মহা পরিচালক, ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এবং সর্বশেষ ১২ মে ১৯৯৯ সাল থেকে দুই বছর চুক্তি ভিত্তিক পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলিক পরিষদের সর্বপ্রথম মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন।
জ্যোতিন্দ্র প্রসাদ তঞ্চঙ্গ্যার মৃত্যুতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়–য়া সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডা. বাদল বরণ বড়–য়া, রাঙামাটি চারুকলা একাডেমির অধ্যক্ষ রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, রাঙামাটি জেলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক নির্মল বড়–য়া মিলনসহ জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংকৃতিক সংগঠন গভির শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।