প্রেমিকের টাকা যোগাড় করতে পাবনায় নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীর প্রতারণা

প্রকাশকাল- ২১:২০,নভেম্বর ২০, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

শফিক আল কামাল ॥

প্রেমিকের হাত খরচার টাকা যোগাড় করতে পাবনায় নার্সিং ইন্সটিটিউটের এক শিক্ষার্থীর ব্যাতিক্রমী প্রতারণার ফাঁদ। অপরদিকে শিক্ষার্থীর পরিবার দিশেহারা হলেও পুলিশের অভিযানে বেড়িয়ে এলো থলের বিড়াল। পাবনা’র পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম সামাজিক যোগাযোগ’র মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে তুলে ধরেছেন অদ্ভূত ঘটনার বর্ণনা। হুবহু তুলে ধরা হলো এ ঘটনা-

“বাবা বাঁচাও, ভাইয়া বাঁচাও। ওরা আমাকে খুব টর্চার করছে, টাকা না পেলে আমাকে মেরে ফেলবে। তাড়াতাড়ি বিকাশে টাকা পাঠাও”ফোনটা কেটে গেল। মুহুর্তেই থমথমে ভাব নেমে এল। ঠিক এমনটাই ঘটেছিল পারবতী পুরের (দিনাজপুর) মেয়ে রেশমার (ছদ্মনাম) পরিবারের সাথে। রেশমার ভাই পরক্ষণেই কল ব্যাক করতেই ফোন সুইজড অফ। দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে গিয়েছিল। এক বার, দুই বার, হাজার বার চেষ্টা করেও ফোন খোলা পাওয়া যাচ্ছিল না।

বাসার সবাই চেষ্টা করছে, অপর প্রান্তে ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আধা ঘন্টা পর আবারও রেশমার ফোন থেকে কল। কাউকে বলার সুযোগ না দিয়েই কান্না জড়ানো কন্ঠে আবারো একই কথা। এইবার অবশ্য একটু বেশী কথা বলল সে। জানালো দু’টো বোরকা পড়া মহিলা তাকে কৌশলে কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে কোথাও এনে আটকে রেখেছে। সাথে কতগুলি নেশাখোর গোছের ষন্ডা মার্কা লোকও আছে। তাকে প্রচুর মার ধোর করছে। টাকা না পেলে তার সাথে কি হবে সে জানে না। আবারো গোঙ্গরানির শব্দ। ফোনটা বন্ধ হয়ে গেল। এবার রেশমার অসুস্থ মা শয্যাশায়ী হয়ে গেলেন। কত শখ করে পাবনার নার্সিং ইন্সটিটিউটে বোনকে ভর্তি করেছে রফিক (ছদ্মনাম)। বড় আদরের ছোট বোন। ওর কিছু হলে তারপর আর কিছুই ভাবতে পারছেনা। মাঝে মাঝেই রেশমার ফোন আসে একই কথা “তাড়াতাড়ি টাকা পাঠাও, পঞ্চাশ হাজার টাকা”।

টানাটানির সংসার। তারপরও বোনের জীবন আগে। ধার দেনা করে টাকার যোগাড় হল। টাকা পাঠানোর আগে হঠাৎ রফিকের মাথায় একটা বুদ্ধি এল, পাবনা জেলার এসপি সাহেবকে বিষয়টা জানানো দরকার, কেননা পাবনা থেকেই তার বোন অপহরণ হয়েছে। তাছাড়া টাকা পেলেও যদি তার বোনকে না ছাড়ে । নানা শংকা মাথায় নিয়ে ১৯/১১/২০১৭ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে সাত টার দিকে সে ফোন করে আমাকে। জানায় তার পুরো ঘটনা। এরপর মাত্র ৩ ঘন্টার ব্যবধান। রফিকের বোনকে ফিরে পায় রফিক। তবে রফিক খুশি হতে পারেনি। নীরবে শুধু চোখের জল ফেলেছে কিছুক্ষণ।

ঘটনা কিছুই নয়। প্রেমিকের হাত খরচের টাকা যোগাড় করতে রেশমার নিজের বানানো নাটকে নাস্তানাবুদ হয়েছে সবাই। পাবনা জেলা পুলিশের চৌকস দল ওঁৎ পেতে ছিল বিকাশের দোকানে (যে দোকানের নম্বরে টাকা বিকাশ করার কথা)। রেশমা টাকা ক্যাশ আউট করতে গেলে হাতে নাতে ধরা খায়। এই ঘটনায় কার কি হয়েছে জানি না, তবে বিশ্বাসের মৃত্যূ হয়েছে। প্রতিদিন অহরহ ঘটছে এমন ঘটনা। সবাইকে জেলা পুলিশ পাবনার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এমন ঘটনা প্রমাণিত হলে, দোষী ব্যক্তিকে কঠোর থেকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। যারা বিশ্বাসের অমর্যাদা করে তাদের ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ নেই। আঁধারের বুক চিড়ে সিগ্ধ আলোয় ভরে উঠুক আমাদের সকলের আঙ্গিনা। সবাই নিরাপদ থাকুন।