“বাঁধ ভেঁঙ্গে বন্যায় প্লাবিত লালমনিরহাট” তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপদ সীমায় প্রবাহিত লাখ লাখ পরিবার পানিবন্দি কোটি টাকা পুকুরে মাছ বন্যায় বিলিন

প্রকাশকাল- ২২:১৯,আগস্ট ১২, ২০১৭,রংপুর বিভাগ, স্লাইডশো বিভাগে

Lalmonirhat Picবদিয়ার রহমান,লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি। টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষনে বন্যার পানি বাড়তে থাকাবস্থায় শুক্রবার রাতে আদিতমারী মহিষখোঁচা ও সদর উপজেলার কুলাঘাট বাঁধ ভেঁঙ্গে যাওয়ায় প্রায় ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছে। সদর উপজেলার তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে আনন্দ বাজার খালুয়াটারী এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে শামসুল হকের ১ একর জমির পুকরের প্রায় আড়াই লাখ টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেঁসে গেছে। ওই এলাকার মৎস চাষী আতাউর রহমানের ২ লাখ,হোসেন আলীর ১ লাখসহ প্রায় ২০ মৎসজীবির কোটি টাকার পুকুরের মাছ ভেঁসে গেছে। মৎসজীবি শামসুল হক বলেন, ঋন করে পুকুরে আমরা মাছের পোনা ছেড়েছি। বন্যায় সর্বশান্ত হয়ে মাথায় হাত দিয়ে কাঁদতে থাকেন তিনি। একই ভাবে জানালেন অপর মৎসজীবিরা। এদিকে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে ২৫ সে.মিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কুলাঘাট ইউনিয়নের ধরলা নদীর বাঁধ ভেঁঙ্গে ১০ গ্রাম মারাত্বক ভাবে প্লাবিত হয়েছে। ধরলার বাঁধ ভেঁঙ্গে যাওয়ায় কুলাঘাটের শিবিরকুটিসহ ১০ গ্রামের প্রায় বাড়ীঘর বন্যার প্রবল স্রোতে ভেঁসে যাচ্ছে। এলাকাবাসি গরু,ছাগল,হাঁস,মুরগী নিয়ে জীবন রক্ষার্থে অন্যত্রে সড়িয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনিষ্ট। ধরলার ৩২ সে,মিটার বিপদ সীমার উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার সকাল ১০টায় বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৬৫ সে.মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিকেলে ৪টায় তা বেড়ে ৫২ দশমিক ৮৫ সে.মিটার দাড়িয়েছে। যা ৫২ দশমিক ৪০ স্বাভাবিক চেয়ে ৩০ সে. মিটার বিপদ সীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে সদর উপজেলার ৪০টি গ্রাম,আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম বন্যায় ডুবে গেছে। বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সড়িয়ে নেয়া হচ্ছে। পানিবন্দি পরিবাররা অভিযোগ করেন, সরকারী ভাবে এখনো কোন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। হাতিবান্ধা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস ্আলম,আদিতমারী উপজেলার মফিজুল হক ও সদর উপজেলার আব্দুল মতিন বলেন, এবারের বন্যা ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে। যা তুলনা করা সম্ভব হচ্ছেনা। বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। লালমনিরহাট জেলা মৎস কর্মকর্তা বলেন, এবারের বন্যায় লালমনিরহাট জেলায় কযেককোটি টাকার মাছ বন্যায় ভেঁসে গেছে। যা এখনো সঠিক নির্ণয় সম্ভব হয়নি। লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার সুজা উদ দৌলা জানান, বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে আগাম ত্রাণ মজুদ রাখা হয়েছে। এখন তা দ্রুত বিতরনের ব্যবস্থা চলছে।