বাংলাদেশে গরু প্রবেশ বন্ধে ভারত হারাচ্ছে সাড়ে ৭ হাজার কোটি রূপি দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনের প্রতিবেদন

প্রকাশকাল- ০৮:৪৪,আগস্ট ২৪, ২০১৭,অর্থনীতি বিভাগে

1503542196বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিশেষ ভারতীয় বিএসএফের কড়া পাহারার কারণে বাংলাদেশে এবার গরু আসা কমেছে। এবারের ঈদে গরু প্রবেশ কমেছে প্রায় ৭৫ ভাগ। ঈদের সময় ভারত বাংলাদেশে গরু পাঠিয়ে বা বিক্রি করে আয় করে ৯ হাজার কোটি রূপি। কিন্তু এবার তা কমে এক হাজার ৬শ’ কোটি রূপিতে দাঁড়াচ্ছে। ফলে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি রূপির বাজার হারাতে হচ্ছে ভারতকে। মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।  সাধারণত এই ঈদে পশ্চিমবঙ্গের অ্যাংরাইল সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে গবাদিপশু চালানে ব্যস্ত থাকেন গোপাল বোস (৩০)। কিন্তু এ বছর চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। অব্যাহত প্রচারণা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে চলতি বছর  বাংলাদেশে ভারতীয় গবাদিপশু পাঠানো কমে দাঁড়িয়েছে চার-পাঁচ লাখে। আগে পাঠানো হতো ২০ থেক ২২ লাখ। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে এ সময়ে গবাদিপশুর চাহিদা প্রায় ৮৮ লাখ। কয়েক বছর ধরে এই চাহিদার এক-চতুর্থাংশের যোগান দিয়ে আসছে ভারত। বেশির ভাগ গবাদিপশু (গরু) বাংলাদেশে পাঠানো হয় হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থান থেকে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্তের ফাঁকফোকর দিয়ে এসব গরু পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে কোনো বাধা নেই। গড়ে এ সময়ে প্রতিদিন ৫ হাজার পশু পাঠানো হয় বাংলাদেশে। এভাবে গরু বা গবাদিপশু বাংলাদেশে পাঠানোর একটি হটস্পট হলো উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অ্যাংরাইল। ইছামতী নদী দিয়ে গোপাল বোস গবাদিপশু বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করতেন এবারও। কিন্তু ওই অ্যাংরাইল সীমান্তসহ অন্যান্য পয়েন্টের চেহারা এবার পাল্টে গেছে। প্রতিদিন বাংলাদেশে ৫ হাজার গরু যাওয়ার কথা থাকলেও এখন যাচ্ছে ৫শ’। বিএসএফ ও পুলিশের বিশেষ তৎপরতার কারণে এ বছর গোপাল বোস ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারও ভারত থেকে অবৈধ পথে গবাদিপশু না আসার ক্ষেত্রে সমর্থন দিচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে দেশটি গবাদি পশু উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে।