বাগমারায় ধর্ষণের চেষ্টায় মাতবরদের সালিশে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় নিস্পত্তি

প্রকাশকাল- ২১:২৮,এপ্রিল ২১, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

রাজশাহী থেকে নাজিম হাসান
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নে এক নারী (২৫)কে ধর্ষণের চেষ্টা করার ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে বিচার করা হয়েছে। সালিশী বিচারে অভিযুক্ত যুবকের কাছ থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে তা ভাগবাটোয়ারা করা হয়। তবে জরিমানার টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটনার শিকার নারীকে দিয়ে বাদবাকী ভাগ করে নিয়েছেন সালিশের মাতবরসহ সালিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সালিশে বিয়ের দাবী ছিল ঘটনার শিকার নারীর। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়ন এলাকার এক নারীর (২৫) স্বামী সড়ক দুঘর্টনায় বছর খানেক মারা যান। সাত ও তিন বছরের দুটি শিশু সন্তান নিয়ে তিনি স্বামীর বাড়িতে ছিলেন। একই গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে বখাটে মোফাজ্জল হোসেন (১৯) দীর্ঘদিন ধরে তাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে, যৌন হয়রানি করে আসছিল। বখাটে মোফাজ্জল গত রোববার রাতে তার ঘরে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় নারীর চিৎকারে প্রতিবেশিরা যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি পক্ষ গ্রামে বসে বিষয়টি সুরাহার উদ্যোগ গ্রহণ করে। পরদিন সোমবার রাতে গ্রামের একটি আমবাগানে ঘটনায় সালিস বসানো হয়। সালিশে ঘটনার শিকার নারী বিয়ের দাবী জানালে মোফাজ্জলের পরিবার মাতবরদের ম্যানেজ করে জরিমানায় নিস্পত্তির পথে হাঁটে। সালিশে সভাপতি ছিলেন মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম আলী। মাতবরদের সাথে মত বিনিময় করে এ ঘটনায় বখাটে মোফাজ্জল হোসেনের তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রাতেই জরিমানার টাকা আদায় করে তা বণ্টন করা হয়েছে। ঘটনার শিকার নারীর এক স্বজন জানান, সম্ভ্রমহানির কথা বলে জরিমানার এসব টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা নারীকে দেওয়া হয়েছে। বাদবাকী টাকা মাতবর প্রধানেরা নিয়েছেন। তিনি জানান, নারীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানী করে আসছিল বখাটে মোফাজ্জল হোসেন। তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আসছিল বখাটে। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানার পর একাধিকবার তাকে সর্তক করেছে। তারপরও নিবৃত হয়নি বখাটে। ঘটনার শিকার হয়ে নারী সামাজিক অসম্মান ঢাকতে সালিশে বিয়ের দাবী জানিয়েছিল। কিন্তু মাতবরদের সালিশ ছিল জরিমানায় নিস্পত্তির পথে। সালিসের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলী অভিযুক্ত যুবকের কাছ থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করার কথা স্বীকার করে বলেন, দু’পক্ষই এ ঘটনায় স্থানীয় সালিশী নিস্পত্তি চাইলে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। নারী ধর্ষণের শিকার হননি বলে নিশ্চিত করলে আলোচনা সাপেক্ষে আর্থিক ক্ষতিপূরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে ঘটনার শিকার নারীকে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে চেয়ারম্যান দাবী করেন। অন্যদিকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে গ্রামের আটটি পাড়ায় বিভিন্ন খাতে দেওয়াসহ গ্রাম পুলিশদের মধ্যেও তা দেওয়া হয়েছে। তিনি এও জানান, নারীকে দেওয়া টাকা ভবানীগঞ্জ পোস্ট অফিসে হিসাব খুলে তার দুই সন্তানকে নমিনি করে নির্দিষ্ট মেয়াদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সম্মতিতেই সবকিছু করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। তিনি এও বলেন, যেহেতু ওই নারী ধর্ষণের শিকার হয়নি, তাই তার সম্মতিতে এ সালিশ করা যায়। তবে রাজশাহী জজকোর্টের সরকারি কৌশলি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, গ্রাম্য সালিসে এ ধরণের বিচার করার এখতিয়ার নেই। বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি তিনি পরে জেনেছেন। তবে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গ্রাম্য সালিসে এ ধরণের অপরাধের বিচার করা যায় কীনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।