বিশ্বনাথে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশংকা

প্রকাশকাল- ২২:৪৫,আগস্ট ১২, ২০১৭,সিলেট বিভাগ, স্লাইডশো বিভাগে

12.08.17বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
বিশ্বনাথে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উপজেলাজুড়ে বন্যা দেখা দিতে পারে। সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের বেশ কয়েক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এদিকে, গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের কয়েক গ্রাম পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বার্হী অফিসার অমিতাভ পরাগ তালুকদার। এসময় তিনি এলাকার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখেন।
জানাগেছে, বিশ্বনাথে গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বিভিন্ন হাওর প্লাবিত হয়েছে আশংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আধা-পাঁকা রাস্তা, পুকুর, খাল-বিল, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে যদি আরোও কয়েকদিন বৃষ্টি হলে বন্যার আশংক করেছেন উপজেলাবাসী। পুরো উপজেলার জন জীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। ঢানা বর্ষণের ফলে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দূভোগে এবং দিনমজুরি অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এখনও উপজেলায় কোথাও প্লাবিত হয়নি খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলার লামাকাজি ও দেওকলস ইউনিয়নের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল রাস্তা পানির নিচের যাওয়ার আশংকা করছেন বলে ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে বন্যার আশংকা রয়েছে। গত দুইদিন ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে এলাকায় বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির কারণে লোকজন বাসা-বাড়ি থেকে বের হতে পারছেনা। জরুরী কাজ ছাড়া কেউ বাসা-বাড়ি থেকে বের হচ্ছেনা। উপজেলা সদরের গত দুইদিন ধরে লোকজনের উপস্থিতিও অন্যান্যা দিনের চেয়ে অনেক কম।
ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়ন,খাজাঞ্চি ইউনিয়ন, রামপাশা ইউনিয়ন, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন, দেওকলস ইউনিয়ন, দশঘর ইউনিয়ন, দৌলতপুর ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়া ফলে জমি রোপা আমন ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। উপজেলা সদরের বাসিয়া নদী, সুরমা নদীসহ পাহাড় থেকে নেমে আসা নদী ও ছড়ার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
এব্যাপারে লামাকাজি ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, তবে এভাবে বৃষ্টি হয়ে ইউনিয়নের মির্জারগাঁও, মাহতাবপুর, সোনাপুরসহ আরও কয়েক গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিতাব পরাগ তালুকদার বলেন, এলাকার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলার কোথাও প্লাবিত হয়নি। তবে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে লামাকাজি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে তিনি জানান।