মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন ৫০ এমপি

প্রকাশকাল- ২২:৩৯,অক্টোবর ১২, ২০১৭,জাতীয় বিভাগে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে সারা দেশে তিনটি জরিপ চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের হাইকমান্ডের তত্বাবধানে দলের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি-নেতাদের দিয়ে এ জরিপ চলছে। এতে দশম সংসদে আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক এমপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক ও সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব এমপি নানা কারণে বিতর্কিত হয়েছেন। জনবিচ্ছিন্ন হয়েছেন, নয়তো জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। জরিপ রিপোর্টে আগামী একাদশ নির্বাচনে তাদেরকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার পক্ষে সুপারিশ করা হয়েছে। জরিপ রির্পোটে বলা হয়েছে, ওই আসনগুলোয় যারা ভোট টানতে পারবেন, সাধারণ মানুষের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি আছে এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া যেতে পারে। এসব আসনে অধিকতর যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দিলে দলের বিজয় নিশ্চিত হতে পারে।

রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, জোট-মহাজোটের সমীকরণের কথা মাথায় রেখে মনোনয়ন চূড়ান্ত করলে জয় শতভাগ নিশ্চিত হবে। প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠের জরিপ নিয়ে দলের একাধিক বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জরিপে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা  দলের তৃণমুল নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর রাখেন। মাঠের খবর তার কাছে আছে। দলের শুভাকাঙ্খি ও দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নয় এমন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে সারাদেশের নির্বাচনী এলাকাগুলোর বর্তমান সংসদ সদস্যদের এলাকার সর্বশেষ অবস্থার খোঁজ-খবর নেত্রী  নিয়েছেন। একাধিক জরিপ তিনি করিয়েছেন। এ অবস্থায় একাদশ নির্বাচনে যেসব এমপির বিরুদ্ধে জনবিচ্ছিন্নতার প্রমাণ রয়েছে তাদের দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার সম্ভবনাই বেশি। মনোনয়নে পরিবর্তন প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই হয়েছে। আগামীতেও হবে। এবারও অর্ধশতাধিক আসনে পরিবর্তন আসতে পারে।

দলীয় সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্যের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচনে দলের জয় নিশ্চিত করতেই এ পরিবর্তন আনা হবে বলে দলের হাইকমান্ড মনে করে।  আগামী নির্বাচনে এসব এমপি দলীয় মনোনয়ন পেলে জয় লাভে ব্যর্থ হবে। এদিকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী গবেষণার সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী  ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজস্ব জরিপ ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রতিটি আসনে প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করছেন। সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিটি আসনেই পাঁচ থেকে আটজন প্রার্থীর তালিকা পাঠানো হচ্ছে। তিন মাস পর পর এ তালিকা হালনাগাদও করা হচ্ছে। সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে অর্ধশতাধিক এমপির বিরুদ্ধে নানা অপকর্ম, ভুমি দখল,বলয় সৃষ্টি করাসহ জন-অসন্তোষ,দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভসহ নানা নেতিবাচক তথ্য উঠে আসছে। এসব তথ্য সামনে রেখে সংসদীয় দলের একাধিক সভায় প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।

একটি সূত্র জানায় দলের হাইকমান্ড তিনশ’ আসনে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে রেখেছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এ তালিকা রদবদলও হতে পারে। জানা গেছে, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কিশোরগঞ্জ, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, মাগুরা, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, মুন্সীগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা, ঠাকুরগাঁও, নড়াইল, ঢাকা, মাদারীপুর, নওগাঁ, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, মেরেহপুর ও নীলফামারি জেলার এক বা একাধিক আসনে পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়াও দলের বয়োবৃদ্ধ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের আসনে  প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। এসব আসনে তরুণ ও এলাকায় জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও দলীয় প্রেসিডিয়াম দুইজন  সদস্য ড.আবদুর রাজ্জাক ও মুহাম্মদ ফারুক খান একাদশ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখন কেউ এমপি আছেন বলে তাকেই মনোনয়ন দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। যারা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন।  তাদের বাদ দেয়ার কথা উঠতেই পারে। তবে অনেক সময় তাদের বিকল্প প্রার্থীও পাওয়া যায় না। আগে একটা বিষয় ছিল, যে কেউ একবার এমপি হলে তাকে বারবার মনোনয়ন দেয়া হতো। এখন আর সে রকম নেই। অনেক এমপি এমনভাবে জনপ্রিয়তা হারান যে তাদের পরিবর্তন না করলে ওই আসনগুলোই হারাতে হয়।। যারা এলাকায় জনপ্রিয়তা রক্ষা করতে পারেননি, দলের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই, তারা এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন।আওয়ামী লীগ