মৌলভীবাজারে শ্রমিকনেতা মফিজ আলীর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশকাল- ০১:০৬,অক্টোবর ১৩, ২০১৭,সিলেট বিভাগ, স্লাইডশো বিভাগে

mofij ali.মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার ঃ বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ বিরোধী নেতা, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, প্রখ্যাত চা-শ্রমিক নেতা মফিজ আলী-এর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন পালিত হয়েছে । গত ১০ অক্টোবর সকালে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যাগে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন, চা শ্রমিক সংঘ, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ও স’মিল শ্রমিক সংঘসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীসূর্য-ধূপাটিলাস্থ প্রয়াত নেতার সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি মোঃ নুরুল মোহাইমীনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিক, প্রয়াত নেতার অনুজ রেজাউল করিম, বিশিষ্ট বাম রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক ডা. আব্দুল হান্নান চিনু, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক ডা. অবনী শর্ম্মা। আলোচনা সভার শুরুতে প্রয়াত নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। বক্তব্য রাখেন- ইউপি সদস্য নারায়ান মল্লিক সাগর, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, জাতীয় ছাত্রদল মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক আহবায়ক নুর মোহাম্মাদ তারাকী ওয়েছ, চা শ্রমিক সংঘের নেতা দিবা বৈদ্য, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল আহমেদ, স’মিল শ্রমিক সংঘের সহ-সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান, জাতীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আশরাফুল ইসলাম উজ্জল প্রমূখ। সভায় বক্তারা বলেন- মফিজ আলীর জীবন ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয়। সংগ্রামী এই জননেতা ১৯২৭ সালের ১০ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা শ্রীসূর্য-ধূপাটিলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৬০ বছরের বেশি রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্র আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ আন্দোলন, চা শ্রমিক আন্দোলন, বালিশিরা কৃষক আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করেন। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করার কারণে তিনি বৃটিশ আমল, পাকিস্তান আমল ও বাংলাদেশ আমলে মোট ৭ বার কারাবরণ করেন। মার্কসবাদ-লেনিনবাদে বিশ্বাস মফিজ আলী জননেতা হিসেবে শোষিত নির্যাতিত শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে যেমন নিরলস সংগ্রাম করে গেছেন তেমনি তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে সংশোধনবাদ, সুবিধাবাদীদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। তিনি ইংরেজি ডন, সংবাদ, ইত্তেফাক, সাপ্তাহিক জনতা, লালবার্তা প্রভৃতি পত্রিকায় লেখালেখি করতেন। তিনি গণতন্ত্রের নির্ভীক মূখপত্র সাপ্তাহিক সেবা পত্রিকায় মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে লেখালেখি করে গেছেন। ২০০৮ সালে ১০ অক্টোবর সংগ্রামী এই জননেতা ৮১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সভায় এক প্রস্তাবে সম্প্রতি সিলেটের রাবার শ্রমিকনেতা সুজন মিয়াকে গ্রেফতার করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা চেষ্ঠার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সুজন মিয়াসহ সকল নেতাকর্মীদের উপর থেকে দায়ের মিথ্যা মাললা প্রত্যাহার ও সুজন মিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়। এছাড়া গত ৫ সেপ্টেম্বর সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ ও নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। আলোচনা সভা থেকে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ ও রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সাম্রাজ্যবাদী দেশ ও সংস্থা সমূহের সাথে সম্পাদিত জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিল, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে কমানো, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, শ্রমিক-কর্মচারিদের জন্য বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে মজুরি নির্ধারণ ও গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৪শ টাকা, ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকের হাতে জমি ও কাজ, কৃষি উৎপাদনের খরচ কমানো এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য, সার, ডিজেল. কীটনাশকের দাম কমানোর দাবিতে প্রয়াত মফিজ আলী জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।