রাজশাহীতে ঘন কুয়াশায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশকাল- ১৮:৩৪,জানুয়ারি ১৮, ২০১৮,রাজশাহী বিভাগ, স্লাইডশো বিভাগে

নাজিম হাসান রাজশাহী প্রতিনিধি:
Rajshahi-picরাজশাহীতে টানা শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় ফসল ও শীতকালীন শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার উপজেলা কৃষকরা বলছেন, শীতকালীন শাকসবজির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। আর একারনে এবার বাজারে শীত মৌসুমে সবজির দাম দিগুন হয়েছে। এছাড়াও বোরো ধানের বীজতলা হলুদ হয়ে যাওয়া, আলুতে পচন রোগ ধরা, পানের পাতা ঝরে যাওয়া, মসুর, খেসারি ও আমের মুকুলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। জেলার তানোরে শীতের তীব্রতা ও ঘনকুয়াশার কারণে বোরো বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা হলুদ ও লাল রং ধারণ করে পাতাগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। বীজের পাতাগুলো শুকিয়ে যাওয়ার ফলে আর নতুন করে পাতা উৎপন্ন হচ্ছে না। ফলে বর্তমান মৌসুমে বোরো ধান রোপন নিয়ে চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। বাঘায় শৈত্য প্রবাহের কারণে খেতের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে শীতকালীন সবজি, পেঁয়ারা ও কুল। ফলে চাষিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উপজেলায় বেগুন, ফুলকপি, পাতাকপি, পালংশাক, লালশাক, কলমি শাক, মুলা, পেঁয়াজ, মরিচসহ শাকসবজি ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। মোহনপুরে তীব্র শীতে ক্ষতি হয়েছে বোরো ধানের বীজতলা। ঘনকুয়াশা ও তীব্র শাতের প্রভাবে আগাম জাতের ধানের চারা হলুদ হয়ে গোড়া পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া দুই সপ্তা আগে বপন করা ধানের কোনো চারা গজায় নি। কুয়াশা থেকে ফসল রক্ষায় কৃষিবিদদের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে ঢেকে এবং চুলার ছাই ব্যবহার করেও সুফল পাচ্ছেন না কৃষকরা। বাগমারা এলাকা ঘুরে দেখা যায়,শৈত্য প্রবাহ, তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাঠে তৈরি অধিকাংশ বীজতলার চারাগাছগুলো হলুদ ও লালচে রং ধারণ করছে। অনেক চারাগাছ মরে গিয়ে শুকনো খড়ে পরিণত হয়ে পড়েছে। শুধু বীজতলা নয়, প্রচন্ড শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে আলু, সিম, সরিষাসহ অন্যান্য রবি শস্য খেতের গাছগুলো লালচে হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আলু গাছ শীতজনিত লেট ব্লাইট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় চলতি আলুর আবাদে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছেকৃষকরা জমিতে বিভিন্ন ধরনের জৈব সার ছিঁটানোর কাজ করছেন। আবার অনেকই ব্যস্ত বীজতলার যতœ নিতে। এবার শীতের কারণে কৃষকদের বীজতলায় বাড়তি যতন্ত নিতে হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেকেই পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রেখেছেন। আবার অনেকই এ কাজটি না করায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ায় বীজতলাগুলো লালচেভাবে শুকিয়ে গেছে। এবিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) বলছেন, এবছর শীতের শুরু থেকেই কৃষকদের সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এইজন্য নিয়মিতভাবে মাঠে আমাদের প্রতিনিধিরা কাজ কওে যাচেছ।