রাজশাহীতে ছাত্রীর কমনরুমে ভিডিও ধারণ শিক্ষককে মারধর

প্রকাশকাল- ১৮:৫৭,সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কমনরুমে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। ওই স্কুলের পারভেজ নামের এক ছাত্র গোপনে জানালার নিচে মোবাইল চালু রেখে যায়। স্কুলের এক শিক্ষক তার মোবাইলটি জব্দ করে। শিক্ষার্থী পারভেজ মোবাইল না পাওয়ায় তার চাচাকে সাথে নিয়ে ওই শিক্ষকে মারধর করে। জানা গেছে, উপজেলার চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কমনরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করে ওই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র পারভেজ। ঘটনার এক পর্যায় কমনরুমের ছাত্রীরা মোবাইলটি স্কুলের অফিস সহায়ক জরিনার হাতে জমা দেন। এরপর জরিনা ওই মোবাইলটি বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক আবদুল কুদ্দুসের কাছে হস্তান্তর করেন। এদিকে শিক্ষক আবদুল কুদ্দুস ছাত্রীদের মুখ থেকে ভিডিও ধারণের খবর শুনে তিনি ওই মোবাইলটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিতে যান। এ সময় প্রধান শিক্ষক ওই মোবাইলটি বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা ফজলুল হকের কাছে জমা দিতে বলেন। এসময় শিক্ষকদের সামনে উপস্থিত হন পারভেজ ও তার চাচা বজলুর রহমান। প্রত্যক্ষদর্শী ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষকের কাছে মোবাইল চাওয়ার পর বিদ্যালয়ের সভাপতির কাছ থেকে মোবাইল নিতে বলার জন্য ওই শিক্ষককে পারভেজ ও তার চাচা বজলুর রহমান বেধড়ক মারধর করেনও মোবাইলটি কেড়ে নেন। ঘটনার এ পর্যায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। স্থানীয়রা জানান, পারভেজ এর আগে এক ছাত্রীকে উত্যাক্ত করার অভিযোগে ওই বিদ্যালয় শালিস বৈঠতক বসেছিল। সেখানে তার অপরাধ স্বীকার করে সে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাকে মাফ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এবারের বিষয়টা তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার সকাল ১০ টায় নির্বাহী কর্মকর্তা উভয়পক্ষকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকেছেন।