রাজশাহীতে পতাকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দর্জিরা

প্রকাশকাল- ২২:১৭,ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:

Rajpic
রাজশাহীতে জাতীয় বিজয় দিবসকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে দর্জি শ্রমিকরা। এই মাসে জাতীয় পতাকার বেশ গদর থাকায় তাই পতাকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখানকার দর্জিরা। ডিসেম্বর হলো আনন্দ আর বিজয়ের মাস। আর বিজয় দিবসের আনন্দে আরো মাত্রা যোগ করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ নিজ বাড়িতেও টাঙানো হয় জাতীয় পতাকা। অনেকের গাড়িতেও শোভা পায় পতাকা। বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় মাস ডিসেম্বর। এ মাসেই বাঙালি পেয়েছিল তার বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। তাই যথাযোগ্য মর্যাাদায় ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস পালনের লক্ষ্যে শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সরকারি, আধা সরকারি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক সংগঠন সহ সর্বস্থরের মানুষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করে। আর এই বিজয়ের মাসে অনেকাংশে বেড়ে যায় লাল সবুজের জাতীয় পতাকার চাহিদা। বিভিন্ন আকারের পতাকা কিনতে ব্যস্ত হয়ে উঠে দেশবাসী ফলে জাতীয় পতাকা বিক্রির জন্য ভ্রম্যমাণ হকরারা ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মাপের পতাকা হাতে বা কয়েক ফুট উচু বাশের উপর থেকে শুরু করে নিজ পর্যন্ত বিভিন্ন সাইজের পতাকায় সাজিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। আর জাতীয় পতাকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাছেন রাজশাহীর বিভিন্ন দর্জিরা। তারা বলেন,বিক্রি ভালোই হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পতাকা বিক্রি হয়। তারা আরো বলেন,পতাকাগুলো আকার ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার ছোট ও মাঝাড়িগুলো ৩০ থেকে ১শ’ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। নাটোর থেকে আসা পতাকা বিক্রেতা আমজাদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, রাজশাহীর তৈরী জাতীয় বিজয় দিবসের পতাকা কিনে শহরের বিভিন্ন যায়গায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে থাকি। সারা বছর বাড়ি এলাকায় কৃষি কাজ করলেও ডিসেম্বর মাসে পতাকা বিক্রি করিতে রাজশাহী শহরে আসি। এবং ডিসেম্বর মাসে পতাকার চাহিদা বেশি থাকায় বেশি লাভে বিক্রি করতে পারি। ২০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকার দামের পতাকা রয়েছে তার কাছে। প্রতিদিন আকার ভেদে সে ১০০ পিসের মত পতাকা বিক্রি করেন। শুধুমাত্র অল্প লাভেই বিক্রি করছে সে ছোট ও বড় পাতাকা। সেই সাথে বিক্রি করলে হাতে ও মাথায় বাঁধার মতো লাল সবুজ ব্যাচ। মূল্য কম থাকায় তার নিকট থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষই পতাকা কিনতে দেখা গেছে। তবে পতাকা কিনতে আসা মহানগরীর মঠপুকুর এলাকার দেবাশীষ সরকার ও কোর্ট মাহিষবাতান এলাকার সাকিল হোসেন বলেন,বাঙালি জাতির একটি অহংকারের মাস ডিসেম্বর। এই মাসে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে। এই মাসে আমরা নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বাসা বাড়িতেও উড়ানো হয় জাতীয় পতাকা। বিজয়ে মাসকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন সড়কে দেখা যাচ্ছে ভ্রামম্যাণ পতাকা বিক্রেতাদের। পতাকাগুলো বিভিন্ন দামে বিক্রি করছেন তারা।