রাজশাহীতে যুবলীগ নেতার হুমকিতে উপাধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষার ফল স্থগিত

প্রকাশকাল- ২১:২৬,এপ্রিল ২১, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

রাজশাহী থেকে নাজিম হাসান
রাজশাহীতে যুবলীগ নেতার হুমকিতে পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর আইডিয়াল কলেজের উপাধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত করে দিয়েছে নিয়োগ বোর্ড। শুক্রবার সকালে নগরীর নিউ গভ: ডিগ্রী কলেজে এই নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে কয়েকজন যুবক সঙ্গে নিয়ে গিয়ে একজন নিজেকে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করার হুমকি দেয়। এসময় তিনি মোটা অংকের বিনিময়ে জামায়াতপন্থী শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ তুলে পরীক্ষা বন্ধ করে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এছাড়াও নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়ার সচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারিরা। তাদের অভিযোগ, দুইবার পরীক্ষা তারিখ পেছানো হয়েছে। কিন্তু তৃতীয়বার পরীক্ষ গ্রহনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও কাউকে চিঠি দেয়া হয়নি। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিশেষ কাউকে নিয়োগ দেয়ার জন্য দুইবার পরীক্ষার তারিখ পেছানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাফর ইকবাল নামের এক আবেদনকারি। যিনি ওই কলেজের শিক্ষক। তবে তার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিয়োগ বোর্ডের শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ও নিউ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জার্জিস কাদির। তিনি বলেন, বিধি অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা আহবান করা হয়। শুক্রবার সাড়ে ১০টার দিকে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। এতে আবেদনকারি ছিলেন নয়জন। চারজনের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া সম্পন্ন হয়। পঞ্চম জনের পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন যুবক তার কক্ষে প্রবেশ করে পরীক্ষা বন্ধ করতে বলেন। এসময় একজন রাজশাহী নগরের ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমি বলছি, পরীক্ষা বন্ধে করে সবাইকে বের হয়ে যেতে হবে’। এ সময় বন্ধ রাখা হলেও পরিবর্তিতে বাকিদের পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান জার্জিস কাদির। তিনি আরও বলেন, নয়জনের মধ্যে সাতজনের পরীক্ষ নেয়া হয়েছে। বাকি দুইজনের মধ্যে একজন লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। আর অপরজন উপস্থিত হননি। অধ্যক্ষ জার্জিস কাদির বলেন, পরীক্ষা চলাকালে বাধা দেয়ার বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারাকে জানানো হয়। তার পরামর্শে পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত করা হয়। সংসদ সদস্য আসার পর ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান জার্জিস কাদির। নিয়োগ বোর্ডের জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও রাবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মাহাবুবর রহমান বলেন, কয়েকজন যুবক নিজেদের যুবলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেটি আমরা আমলে না নিয়ে শান্তিপূর্নভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে যুবলীগের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না কারার শর্তে স্থানীয় যুবলীগের এক কর্মী জানায়, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জামায়াতপন্থী শিক্ষককে উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছিল এমন খবর পেয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীরা পরীক্ষায় বাধা দেয়। এদিকে, নিয়োগ বোর্ডের পরীক্ষা গ্রহনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এক আবেদনকারি। বোর্ডে অসচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে দাবি করেছেন জাফর ইকবাল নামের ওই আবেদনকারি। তিনি ওই কলেজের শিক্ষক। জাফর ইকবাল বলেন, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই নিয়োগ বোর্ড পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়। এর পর গত ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা গ্রহনের জন্য চিঠি দেয়া হয়। সেদিনও পরীক্ষা নেয়া হয়নি। আবার ২১ এপ্রিল পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও কাউকে চিঠি দেয়া হয়নি। পরীক্ষার দিন সকালে তার এক সহকর্মীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন নিযোগ পরীক্ষা হবে। এ কারণে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে জানান জাফল ইকবাল।