রাণীনগরে বৃষ্টিপাতের কারণে ইট ভাটায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি

প্রকাশকাল- ২০:৩৭,ডিসেম্বর ১১, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ, স্লাইডশো বিভাগে

মোঃ নাজমুল হাসান, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

Raninagar it vata Pic

বঙ্গোপসাগরে নিম্ম চাপের কারণে শনিবার দুপুর থেকে রাতভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মৌসুমের ইট ব্যবসায়ী ভাটার মালিকদের মাঠি দিয়ে তৈরি ইটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েক দিন আগের তৈরি আধা শুকনো ইট গুলো বৃষ্টির কারণে খামাল ধসে পরে ভাটার মাঠেই পানি কাঁদাতে একাকার হয়ে গেছে। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এভাবে চলতে থাকলে শুকনো ইটের অভাবে চলমান আগুন দেওয়া ভাটাগুলো যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পাড়ে। শুরুতেই এই রকম ধকলের কারণে ইট ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছে। উৎপাদন কম হলে ক্রেতারাও বাড়ি-ঘর নির্মাণ সহ রাষ্ট্রের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে ব্যাপক প্রভাব পরতে পাড়ে বলে ধারনা করছেন এলাকাবাসি। এমনিতে রাণীনগরে বিগত কয়েক বছর ধরে আশাপাশের উপজেলা চেয়ে রাণীনগরে ইটের দাম বেশি। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আশংকা করা হচ্ছে কয়েক বছরের চেয়ে এবছর বেশি দামে ইট ক্রয় করতে হবে বলে এলাকার সাধারণ মানুষ জানান।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে ১০ টির মত ইট ভাটা রয়েছে। চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যেই ৮ টি ভাটায় ইট তৈরির কাজ পুরোদমে শুরু করাই কয়েকটি ভাটায় আগুন দিয়ে পুরানো কাজও শুরু হয়েছে। আগুন দেওয়ার পর একটি ভাটায় যে পরিমাণ শুকনো ইট মজুত করা থাকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে শুকনা তৈরি ইটগুলো পানি-কাঁদায় একাকার হয়ে গেছে। এরকম দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া চলতে থাকলে শুকনো ইট অভাবে আগুন দেওয়া ভাটা গুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দিবে। ইট ব্যবসায়ীরা বলছে, পুরো মৌসুমে শুকনো ইট মজুত করতে না পারলে আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বো। এক দিকে ব্যাংকের ঋন অন্য দিকে শ্রমিকদের ধরে রাখাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার যদি আমাদের প্রতি সুনজর না দেয়, তাহলে এই ব্যবসা থেকে আমাদের ছিটকে পড়তে হবে। বৃষ্টিপাতের কারণে চালু হওয়া ভাটা গুলোর প্রায় দেড় কোটি টাকার মত ক্ষতি হবে বলে এমনটায় ধারনা করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
উপজেলার ইট ব্যবসায়ী ত্রিমোহনী এলাকার এসবিসি বিক্সসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম জানান, ভাল আবহাওয়া দেখে এই মৌসুমে কিছুটা আগাম সময়ে ইট কাটা ও আগুন দেওয়া শুরু করেছি। হঠাৎ করে নিম্ম চাপের কারণে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মাঠে তৈরি ইট সহ প্রায় ১১ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া মন্দ থাকলে শুকনো ইটের অভাবে ভাটার আগুন নিভে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরোও দ্বিগুন হবে। তাই আশা করছি এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের প্রতি সরকার সুনজর দিবে।