রাবির শিক্ষার্থী লিপু হত্যার এক বছরেও হয়নি চার্জশিট

প্রকাশকাল- ২০:৫৯,অক্টোবর ১৯, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যার রহস্য এক বছরেও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়ও আবাসিক হলে সংঘটিত চাঞ্চাল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটও দিতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে মামলার তদন্তভার দুইজনের হাত বদল হয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) এসেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লিপুর পরিবার ও সহপাঠীরা। এবিষয়ে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক জানান,তদন্তে তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। তবে আমাদের তৎপরতা চলছে,একটু সময় লাগবে। হত্যার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,হত্যার কারণ এখনও জানা যায়নি। প্রক্সি জালিয়াত চক্রের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না। তবে দুজন শিক্ষার্থীকে আমরা সন্দেহ করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। এদিকে, রাবি শিক্ষার্থী লিপু হত্যার সুষ্ঠু তদন্তে অবহেলার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে লিপুর সহপাঠী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিভাগের সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে লিপু চত্বরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিভাগের শিক্ষার্থীরা মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ এনে বলেন, লিপুর আমাদের সঙ্গে ক্লাস করার কথা। কিন্তু সেই স্বপ্নকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এখনও চুপ। এসময় দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। লিপুর চাচা মো. বশীর উদ্দিন বলেন, একবছর হয়ে গেল, পুলিশ তো কিছুই জানায়নি। লিপুর মৃত্যুর পর একবার এসে কথা বলে লেখালেখি করে নিয়ে গেছে পুলিশ। আর আসেনি, কিছু জানায়নি। জানি না কী হবে। উল্লেখ্য ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের ভিতরেই খুন হন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু। পরের দিন তার লাশ ড্রেন থেকে উদ্ধারের সময় তৎকালীন রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার, পিবিআই, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। লিপুকে হত্যা করা হয়েছিল বলে ওই সময় পুলিশ ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওইদিন বিকেলে লিপুর চাচা বশীর বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা তদন্তের দায়িত্ব দুজনের হাত বদল হয়ে এখন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) গেছে। তবে তারা এখনো কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানাগেছে।