রাবি শিক্ষার্থী লিপু হত্যা এক বছরেও হয়নি মামলার চার্জশিট, স্বজনদের ক্ষোভ

প্রকাশকাল- ২০:০৩,অক্টোবর ১৯, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

রাশেদুল ইসলাম রাজন, রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যার রহস্য উদঘাটনের এক বছরেও চার্জশিট দিতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে মামলার তদন্তভার দুই জনের হাত বদল হয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) এসেছে। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে লিপুর পরিবার ও সহপাঠীরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক বলেন, ‘আমাদের তৎপরতা চলছে, একটু সময় লাগবে। আশা করা যায়, দ্রুত ভালো কিছু জানাতে পারবো। তবে কি কারণে লিপুকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনও জানা যায় নি। আমরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।’
এদিকে হত্যার সুষ্ঠু তদন্তে অবহেলার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বিভাগের সামনেস লিপু চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ সময় বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পা-ে বলেন, ‘লিপু হত্যার তিন মাস পর প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই আমাদের হাতে এসেছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এক বছর পরও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি আমরা পেলাম না। প্রশাসনের ওপর আমাদের আস্থা যেন থাকে, এ জন্য আসামিদের দ্রুত বিচারে আওতায় নিয়ে আসুন।’
মামলায় তদন্তে ধীরগতি হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে লিপুর সহপাঠিরা বলেন, আবাসিক হলের ভেতরে তাকে খুন হতে হয়েছে। পুলিশ এক বছরেও হত্যার কোন ক্লু, মোটিভ কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি। তারা আমাদের বারবার আশ্বস্ত করছে। এই এক বছরে মামলার অগ্রগতি বলতে শুধু দুইজন তদন্ত কর্মকর্তা বদলি ছাড়া আর কিছুই হয়নি। এসময় দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে লিপুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লিপুকে হত্যা করা হয়েছিল বলে ওই সময় পুলিশ ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওইদিন বিকেলে লিপুর চাচা মো. বশীর বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
লাশ উদ্ধারের দিন লিপুর রুমমেট মনিরুল ইসলামকে আটক করা হয়। কিন্তু ৮ নভেম্বর জজকোর্ট থেকে মনিরুল জামিন পায়। পরে মনিরুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব বলে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান দাবি করেছিলেন। এরপর মামলার তদন্তভার পান মতিহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান। সর্বশেষ চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।