রিজার্ভ চুরির অর্থ ফেরাতে চীনের সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ

প্রকাশকাল- ২১:৩৮,আগস্ট ২৩, ২০১৭,অর্থনীতি বিভাগে

1503501841বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজর্ভের অর্থ ফেরাতে এবং হ্যাকারদের ধরতে চীনের সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে (ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ হ্যাকের ঘটনায় চীনা দুইজন হ্যাকারের যুক্ত রয়েছেন বলে ইতোমধ্যে একাধিক সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে। এজন্য বাকি হ্যাকারদের তথ্য পেতে এবং চুরি হওয়া রিজার্ভের অবশিষ্ট অর্থের হদিস পেতে চীন সরকারের সহায়তা চায় বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমানের নেতৃত্বে এ বিষয়ে একটি পর্যালোচনামুলক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, এর আগে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিকবা ঘটনার দায় নিতে অস্বীকার করলেও সম্প্রতি বাংলাদেশকে জানিয়েছে তারা অর্থ উদ্ধারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে। তবে শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ যেন আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা না করে। কেননা মামলা করলে বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের উপর ন্যস্ত হয়ে পড়বে। তখন ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইলেও প্রয়োজনীয় সহায়তা বাংলাদেশকে দিতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে। এদিকে নিয়ম অনুযায়ী আগামী দেড় বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা না করলে পরবর্তীতে বাংলাদেশ আর মামলা করার সুযোগ পাবে না। ফলে সে সময়ের আগেই রিজার্ভের অর্থ ফেরত এবং হ্যাকারদের সব ধরনের তথ্য জানতে চীন এবং ফিলিপাইনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন অনেকগুলো বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশার কথা হচ্ছে ফিলিপাইন আমাদের সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে। এদিকে চীন সরকারের সঙ্গেও কথাবার্তা হচ্ছে। তাদের কাছেও আমরা সহায়তা চেযেছি। আশা করি খুব শিগগরিই আমরা একটা ভাল ফলাফল পেতে যাচ্ছি।
সূত্র জানায়, ফিলিপাইন শুধু মামলার না করার শর্তই দেয়নি। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আবারো জানানো হয়েছে এ ঘটনায় সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে তাদের ব্যাপারে তথ্য চেয়েছে ফিলিপাইন। তবে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এসব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়। তদন্ত প্রতিবেদনে কি আছে সেটাও ফিলিপাইন বা চীন কাউকেই দেওয়া যাবে না।
এর আগে ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার থেকে দেড় কোটি ডলার ফেরত এলেও বাকি ৬ কোটি ৫৮ লাখ ডলার কোথায় রয়েছে তার কোন হদিস এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঐ অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনাও ক্ষীণ। আর তা উদ্ধারের সম্ভাবনা জাগাতে হলে অবশ্যই হ্যাকারদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক বা ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) দায়ী কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ন তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করে ফিলািপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকালের বৈঠকে এসব বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রী ব্যাংকের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, রিজার্ভ চুরির কিছু বিষয়ে অগ্রগতি রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার করা না করার বিষয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।