রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে শিশুসহ ১ হাজার যুবতি নিখোঁজ

প্রকাশকাল- ০০:৩৬,অক্টোবর ১, ২০১৭,চট্টগ্রাম বিভাগ বিভাগে

untitled55উখিয়া প্রতিনিধি :: রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন, ধর্ষণ ও জাতিগত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা যুবতি ও শিশু নিখোঁজের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। নিখোঁজ কিংবা অপহরণের ঘটনা বেঁড়ে যাওয়ায় বিষয় নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় শংকিত হয়ে পড়েছে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। এদিকে সংঘবদ্ধ পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও জনপ্রতিনিধিদের সাথে বৈঠককালীন সেনাবাহিনীর ৬৫ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহমান এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। সে জন্য সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও যৌথ ভাবে কাজ করার আহবান জানান।

২৫ আগষ্ট থেকে মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে বর্বরতা নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তৎমধ্যে মহিলা, যুবতি ও শিশুর সংখ্যা বেশি। আন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা এক জরিপে জানান, উখিয়ার ৬টি অস্থায়ী এবং টেকনাফের ৫টি ক্যাম্পে নতুন পুরাতন প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
সুত্রে জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে পর্যন্ত ১ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা যুবতি ও শিশু নিখোঁজ রয়েছে। এরই মধ্যে ২৫৫ জনকে ফেরত পাওয়া গেছে। অবশিষ্টরা এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উখিয়ার কুতুপালং, টিভি টাওয়ার পাহাড়, বালুখালী, মাইন্যার ঘোনা, তাজনিমার খলা, হাকিম পাড়া, থাইংখালী ও তেল খোলা, অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী শিশু পাচারকারীরা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। দামী গাড়ি নিয়ে ক্যাম্প গুলোতে ত্রাণ বিতরণের নামে তারা নারী শিশু টার্গেট করছে।
হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে। যে কোন সময় নারী-শিশু পাচার ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজের নামে নারী-শিশু পাচার হচ্ছে। পাচারের বিষয়টি সরকারী-বেসরকারী ভাবে জরিপের আওতায় আসেনি এখনো তাই সঠিক সংখ্যাটা বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ মো: রেজার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মানবধিকার সংস্থার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় এক সময় কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়া পাড়া শরণার্থী ক্যাম্প নারী ও শিশু পাচারের টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে পরিচিতি ছিল। মানবধিকার সংস্থা বেশ কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে পাচার হওয়া অনেক রোহিঙ্গা নারী শিশুকে উদ্ধার করেছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন নারী শিশু নিখোঁজ হচ্ছে। এমনকি নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করতে মাইকিং সহ কন্টোলরুম খোলা হয়েছে। কেউ হারিয়ে গেলেই কুতুপালং ক্যাম্পে মাইকিং করা হয়।
মাইকিং যোগে নিখোঁজ সংবাদ প্রচারে দায়িত্বপালনকারীর নজির জানান, প্রতিদিন অসংখ্য নারী ও শিশু নিখোঁজের খবর আমাদেরকে মাইক যোগে প্রচার করতে হচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজারের অধিক নিখোঁজের মধ্যে ১৭৯জন ছেলে ও ৭৬জন মেয়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ অভিভাবকগণ প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদেরকে খুঁজে পাই। এখনো কোন হদিস মেলেনি ৭৮৫জনের।
নারী শিশু পাচারকারীরা বিভিন্ন প্রলোভন ও অর্থের লোভ দেখিয়ে অসহায় নির্যাতিত নারী শিশু রোহিঙ্গাদেরকে বিভিন্ন এলাকায় পাচার করার এক ঘৃণ্য কাজে নেমে পড়েছে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কঠোর নজরদারীর প্রয়োজন বলে দাবী সচেতন মহলের।