শাহজাদপুরে প্রাণিসম্পদ বিভাগের বেহাল দশা

প্রকাশকাল- ২১:১১,অক্টোবর ১৯, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

শাহজাদপুর প্রতিনিধি ঃ
শাহজাদপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগের বেহাল দশা। হুমকির মুখে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দুগ্ধপল্লী বলে খ্যাত শাহজাদপুরের শতশত গো-খামার। চিকিৎসক লোকবল না থাকায় এখানকার খামারীরা তাদের গো-সম্পদ নিয়ে বিপাকে পড়েছে। এদিকে গত তিন সপ্তাহ ধরে ডাক্তার ছাড়াই চলছে শাহজাদপুরের প্রাণিসম্পদ অফিস। চিকিৎসকের অভাবে ৮০ ভাগ পশুর চিকিৎসা চলছে হাতুরে ডাক্তার দিয়ে। শাহজাদপুর উপজেলা ৩১৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে ১টি পৌরসভা, ১৩টি ইউনিয়ন ৩৪৩টি গ্রামের প্রায় ৬ লাখ জনগোষ্ঠি নিয়ে গঠিত। এ উপজেলাটি বাংলাদেশের গবাদিপশু সমৃদ্ধ একটি এলাকা। বৃটিশ আমল হতেই এ অঞ্চলের জনগণ পেশা হিসাবে গবাদিপশু পালন করে আসছে। গবাদিপশুর কারনে এ অঞ্চলে উন্নত জাতের ঘাস চাষ করা হয় । বড়াল ও করতোয়া নদীর অববাহিকায় অনেক গো-চারন ভূমি গড়ে উঠেছে। শীত মৌসুমে প্রচুর পরিমানে মৌসুমী এবং স্থায়ী ঘাস উৎপাদিত হয়। গো-চারন ভূমিতে অত্র এলাকার গবাদিপশু প্রায় ছয় মাস মাঠে চড়ে কাচা ঘাস খাওয়ার সুযোগ পায়। অত্র উপজেলায় বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশী দুধ উৎপাদন হয়। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য ঢাকা, চট্টগ্রাম,সিলেট সহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। অত্র এলাকায় দুধের প্রাচুর্যের কারনে গড়ে উঠেছে মিল্ক ভিটা, প্রাণ, ব্র্যাক আড়ং, আকিজ, ইগলু,আফতাব এর মত বিভিন্ন দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত করন ও সরবরাহকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। উপজেলার রেশমবাড়ী গ্রামের দুগ্ধ খামারী মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী, শাকতোলা গ্রামের আল মাহমুদসহ বেশ কিছু খামারী জানান, এ উপজেলার মানুষ গো-খামারের ওপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন সময়ে তাদের উৎপাদিত দুধ মিল্কভিটাসহ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ না কেনায় তাদেরকে দুধ নিয়ে বিপাকেও পরতে হয়। তাই এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে অনেকেই গাভী বিক্রি করে খৈল-ভুষির দোকানে বাকী পরিশোধ করছে। এ অবস্থায় এলাকার অনেক খামারী গরু-বাছুর বিক্রি করে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ডাক্তারের অভাবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বিপুল সংখ্যক গবাদী পশুকে চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হয়। ডাক্তার না থাকায় হাতুরে ডাক্তারের ওপর তাদের নির্ভরশীল থাকতে হয়। এতে করে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে খামারীরা। শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস ছামাদ জানান, এ উপজেলায় শুধু প্রাণিসম্পদের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় আটষট্টি হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। দুধের ভাল বাজার না পাওয়ায় দুগ্ধ খামারীরা গাভী বিক্রি করে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এ উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার খামার রয়েছে। একজন মাত্র ভেটেরিনারী সার্জন দিয়ে পুরো উপজেলা চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। অফিসে যারা আসে শুধু তাদেরই সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এ উপজেলায় বিগত বছরে তড়কা রোগে গবাদী পশুসহ অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ তাদের সাধ্যমত প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়েছে। গত এক সপ্তাহ যাবত একমাত্র ভেটেরিনারী সার্জনও অন্যত্র বদলী হয়ে চলে গেছে। ভেটেরিনারী সার্জনের চাহিদা দিয়ে উর্ধতন কতৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আকতারুজ্জামান ভুইয়া জানান, শাহজাদপুর গবাদী পশুর জন্য একটি গুরুত্বপুর্ন উপজেলা। বর্তমানে ভেটেরিনারী সার্জন বদলী জনিত কারণে পদটি শুন্য আছে। ভেটেরিনারী সার্জন এর চাহিদা দিয়ে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।