শিশুদের স্কুলে ভর্তি নিয়ে উৎকণ্ঠায় হাজার হাজার অভিভাবক চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্মনিবন্ধন সনদ উত্তোলনে জটিলতা

প্রকাশকাল- ২২:২৫,ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
বর্তমান সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে প্রতিটি ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র ব্যবহারে বাধ্যকতা নিশ্চিত করায় সনদপত্রের চাহিদা রয়েছে সর্বক্ষেত্রেই। আর এ অবস্থাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র উত্তোলনে দেখা দিয়েছে নানান জটিলতা। এনিয়ে নতুন বছরে শিশুদের স্কুলে ভর্তি নিয়ে উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তায় রয়েছে হাজার হাজার অভিভাবক মহল। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সরকার বিভাগ চলতি বছরের মার্চ মাসে এ সংক্রান্তে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনের ৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ব্যক্তির জন্মের ছয় মাস পরে কিন্তু দুই বছরের মধ্যে আবেদনপ্রাপ্ত হলে আবেদনপত্রের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হলে, নিবন্ধক তথ্য নিবন্ধনের জন্য প্রস্তুত করলে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এবং সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ক্ষেত্রে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন এবং ব্যক্তির জন্মের দুই বছর পরে আবেদনপ্রাপ্ত হলে অনুরূপভাবে রেজিস্ট্রার জেনারেল এর নিকট প্রেরণ করবেন। অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মের ছয় মাসের মধ্যে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র উত্তোলন করতে পারলেও ছয় মাস থেকে দুই বছর এবং তার অধিক বয়সীদের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে চরম জটিলতা। জানাগেছে- বর্তমান সময়ে নতুন বছরে শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করতে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র বাধ্যতামূলক দিতে হবে। কিন্তু বিড়াম্বনার কারণে জন্ম সনদপত্র উত্তোলন করতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার অভিভাবক। দূর্লভপুর ইউনিয়নের পনের রশিয়া গ্রামের অভিভাবক আলমগীর কবির জানান, তার ছয় বছরের শিশুর জন্য স্কুলে ভর্তি করতে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র প্রয়োজন। কিন্তু চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জন্ম সনদপত্র না পাওয়ায় ভোগান্তির শিকার হয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, সঠিক সময়ে সনদপত্র না পেলে শিশুটিকে স্কুলে ভর্তি করা সম্ভব হবেনা। দূর্লভপুর ও মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, আর মাত্র কয়েকদিন পরেই স্কুলে শুরু হবে শিক্ষার্থীদের ভর্তি। এ কারণে প্রতিদিন শত শত সাধারণ মানুষ জন্মনিবন্ধন সনদপত্র নেয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে ভিড় জমাচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত সনদপত্র দিতে পারলেও নতুন গেজেট প্রকাশের পর ছয় মাসের পরে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র দিতে পারছিনা। এদিকে শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কারিবুল হক রাজিন জানান, শিশুদের জন্মের ছয় মাস পরে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র উত্তোলনে জটিলতা সৃষ্টির ফলে শিশুদের অভিভাবকদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফিরোজ হাসান জানান, ইতোপূর্বে সবগুলো জন্মনিবন্ধন সনদপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ বিতরণ করে আসছিল। গত এক সপ্তাহ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র বিতরণে কিছুটা কড়াকটি আরোপ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আমাদের (উপজেলা প্রশাসন) কার্যালয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জন্মনিবন্ধন সনদপত্রের ব্যবস্থা করছি। এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।