শেরপুরে পাহাড়ী ঢলে বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন; অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশকাল- ২১:১৬,আগস্ট ১২, ২০১৭,ময়মনসিং বিভাগ বিভাগে

Flood Pic-4শাকিল মুরাদ, শেরপুর প্রতিনিধি:

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি নদী ভোগাইয়ের অন্তত ১৩টি স্থানে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। নদীর তীর গড়িয়ে প্লাবিত হচ্ছে চেল্লাখালী নদীর পানিও। এতে পৌরসভাসহ এ উপজেলার অন্তত অর্ধশত গ্রাম আকস্মিক বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। শনিবার ভোর থেকে দেখা গেছে, পাহাড়ি নদী চেল্লাখালীর তীর উপচে বিপদ সীমার উপর দিয়ে ঢলের পানি আশপাশের গ্রামে প্রবেশ করছে। এতে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে এবং পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বানের পানিতে। ওইসব এলাকা এখন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

এছাড়া ভোগাই নদীর নয়াবিল ইউনিয়নের হাতিপাগারে একটি, রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের মন্ডলিয়াপাড়া ও ভজপাড়ায় ২টি, নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের নিচপাড়া ও খালভাঙ্গায় ৩টি, বাঘবেড় ইউনিয়নের শিমুলতলা এলাকায় ৩টি এবং পৌরসভার নিচপাড়ায় একটি, খালভাঙ্গায় একটি ও উত্তর গড়কান্দা এলাকার ২টি মিলে মোট ১৩টি স্থানে তীর রক্ষা বাধে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের আশংকা রয়েছে আরও বেশকিছু এলাকায়। সবমিলে ভাঙ্গনকবলিত নদী পারের পরিমাণ প্রায় হাজার মিটার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্তত ৮টি ইউনিয়ন আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েছে। এসব এলাকার ফসলি জমি, বাড়ি-ঘর তলিয়ে গেছে। পুকুর গড়িয়ে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ। পানির তোরে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে অসংখ্যা কাঁচা ও পাঁকা রাস্তা। বন্যা কবলিত হয়ে পড়ায় বেশকিছু বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেশকিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুত ব্যবস্থা। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। অপরদিকে চেল্লাখালী নদীর বাতকুচি-পলাশীকুড়া নামক স্থানের ষ্টীলের ব্রীজটি পাহাড়ী ঢলের ¯্রােতের তোড়ে ভেঙ্গে গেছে। এতে ৪ গ্রামের অন্তত ২ হাজার মানুষ নদী পাড়াপাড়ে দুর্ভোগে পড়েছে বলে ওই ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ মিয়া জানান।

বন্যা কবলিতরা জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে ভোগাই নদীর বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে আকস্মিক ঢল নামে। একই সময়ে দু’কুল উপচে ঢল নামে চেল্লাখালীর আশপাশ এলাকায়ও। এসময় তারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে আশপাশের উচু এলাকায় আশ্রয় নেন।

বন্যা কবলিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বিগত কয়েক বছর যাবত ভোগাই নদীর বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ভাঙ্গা অব্যাহত ছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও এসব বাঁধ রক্ষায় সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসেনি।

এদিকে শনিবার সকাল থেকেই উপজেলা প্রশাসন বন্যা কবলিত বেশকিছু এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরফদার সোহেল রহমান।