সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তাবাহিনীকে নিয়ে ষড়যন্ত্র রেলে ৫০ হাজার জনবল নিয়োগের সুপারিশ ॥ পশ্চিমাঞ্চল রেলে চাহিদার ৭১৬ পদের সুপারিশ না করায় নিরাপত্তাবাহিনীতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি

প্রকাশকাল- ১৫:৪৫,অক্টোবর ১৩, ২০১৭,রাজশাহী বিভাগ বিভাগে

ঈশ্বরদীপ্রতিনিধি ॥ রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগে ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় কর্মকর্তারা সুকৌশলে সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তাবাহিনীকে নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। জনস্বার্থে সরকার যখন রেলের বিভিন্ন বিভাগে লোক নিয়োগসহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজ শুরু করেছে,তখন ঐ চক্রটি যাত্রী নিরাপত্তা ও রেল সম্পদ রক্ষাকারী নিরাপত্তাবাহিনীকে ধংস করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট বেকারত্ত্ব দূরীকরণে সরকার রেল বিভাগে লোকোমোটিভ ও কোচ আমদানী করেছে। যাত্রী সেবা,রাজস্ব আয়, নিরাপত্তা বৃদ্ধিসহ নানা সুযোগ সৃষ্টিতে নতুন নতুন রেললাইন সম্প্রসারণ,গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ও ট্র্যাকের উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রেখেছে। জনস্বার্থে ও দেশের উন্নয়ন কল্পে এসব কাজকে আরও ত্বরান্বিত করতে সরকার রেলের সংস্কার প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগে জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংস্কার প্রকল্পের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ৫০ হাজার ২৭৫ জন জনবল নিয়োগের সুপারিশ করা হলেও নিরাপত্তাবাহিনীর একটি সিপাহী পদ সৃজনের জন্যও সুপারিশ করা হয়নি। অথচ রেলের শুধু পশ্চিমাঞ্চলেই এ বাহিনীর ৭১৬ টি সিপাহী পদে এবং সিপাহীদের মনিটিরিংয়ের জন্য অন্যান্য পদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের জন্য পশ্চিমাঞ্চল রেলের জেনারেল ম্যানেজারের দপ্তর থেকে একাধিকবার সংস্কার প্রকল্পের পরিচালকের নিকট পদের চাহিদাপত্র দাখিল করেও কোন কাজ হয়নি। পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশী বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানাগেছে।
সূত্রমতে, ভারতীয় উপমহাদেশে রেলের ঊষালগ্নে গঠিত ওয়াচ এ্যান্ড ওয়ার্ডই ১৯৭৬ সালে আরএনবি(রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী) নামে আতœপ্রকাশ করে। রেলের নিরাপত্তাবাহিনী আইন,২০১৬’র মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করে। শুরুতে জনবল কাঠামো ঠিক থাকলেও বর্তমানে এ বাহিনীর কাজের পরিধি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাচ্ছে। জনস্বার্থে বিভিন্ন নতুন নতুন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরী,নতুন ইউনিট স্থাপন,পূর্বের তুলনায় দেশের অভ্যন্তরে তৈলবাহী ও দেশের বাইরের ভারতীয় মালবাহী গাড়ি বৃদ্ধির দরুন এস্কট ফোর্স বৃদ্ধিকরণ,টিকিট চেকিং,ব্লক চেকিং,মোবাইল কোর্ট পরিচালনা,উচ্ছেদ অভিযান,চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান,ভিআইপি মুভমেন্টে ফোর্স প্রদান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ ঈদ উদযাপনের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে এ বাহিনীটিতে নতুন করে পদ সৃজনের গুরুত্ব অপরিসীম।
বর্তমান সময় আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় নাশকতা ও তথাকথিত জংগী তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের প্রতিটি শৃঙ্খলা বাহিনীতে সদস্য সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। রেলের সম্পদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এ সশস্ত্র বাহিনীতে নতুন কোন পদ সৃষ্টি না হওয়া খুবই দুঃখ জনক। আইন এবং অস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী করা হলেও পশ্চিম জোনে লোকবলের স্বল্পতার কারণে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেনা এবাহিনীর সদস্যরা। রেলের পুলিশের সদস্য সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হলেও ১৯৮৫ সালে রহস্যজনকভাবে এমএল কমিশনের মাধ্যমে রেলের নিজস্ব এ বাহিনীর জনবল কমানো হয়। রেলের যে কোন প্রয়োজনে এবাহিনীর সদস্যরা প্রথমে এগিয়ে আসে। রেলের সম্পদের সুষ্ঠ নিরাপত্তা এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির স্বার্থে নিরাপত্তাবাহিনীতে জনবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্তিশালী করা রেলের স্বার্থেই বিশেষ প্রয়োজন। এ অবস্থায় সংস্কার প্রকল্প থেকে রেলের স্বার্থ রক্ষায় এবং সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে নিরাপত্তাবাহিনীতে নিয়োগের সুপারিশ না করায় ব্যাপক গোটাবাহিনী ব্যাপী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠ সমাধানের জন্য সুত্রটি প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।